নাটোরে দুই শিক্ষকের নামে খামে এলো কাফনের কাপড়
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নামে ডাকযোগে বড় খামে ভরে কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। রোববার সকালে খাম দুটি খোলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাফনের কাপড়গুলো জব্দ করেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পোস্ট অফিসের একজন পিয়ন এ-৪ আকারের বড় দুটি খাম কলেজে দিয়ে যান। খাম দুটির একটি ছিল ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুস সামাদের নামে এবং অন্যটি মনোবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের নামে। জরুরি কাগজপত্র ভেবে অফিস সহকারী খাম দুটি গ্রহণ করেন। রোববার সকালে শিক্ষকরা কলেজে এসে খামগুলো খোলার পর ভেতরে কাফনের কাপড়ের পুরো সেট দেখে আঁতকে ওঠেন। প্রতিটি খামের ওজন ছিল ৮৪০ গ্রাম এবং এগুলো ৬ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে রেজিস্ট্রি করে পাঠানো হয়েছিল।
প্রভাষক আনোয়ার হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ উভয়েই জানান, খাম খুলে কাফনের কাপড় দেখে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রেরকের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তারা চেনেন না এবং কেন এমনটি করা হলো সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন। বর্তমানে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম শঙ্কিত এবং এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ওমর আলী জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলেজে অডিট কমিটি গঠনসহ নানা অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অডিট বা কলেজের অভ্যন্তরীণ কোনো কাজে ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো পক্ষ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ৩০ মার্চ নতুন সভাপতি মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এছাড়া কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষকদের কাছে এমন জিনিস আসা সত্যিই শঙ্কার বিষয়। বিষয়টি নিয়ে তারা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে কাফনের কাপড়গুলো উদ্ধার করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আপাতত উদ্বেগের কিছু নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
