
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১০ বছর বয়সী শিশু মায়মুনা আক্তার ময়না হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দ্বারস্থ হয়েছেন এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবার। গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক জনাব মো: আবু সাঈদ বরাবর একটি লিখিত আবেদন পেশ করেন নিহত শিশুর মা লিপা আক্তার। আবেদনের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট মহলেও পাঠানো হয়েছে। আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের একমাত্র কন্যা মায়মুনা আক্তার ময়না বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সর্বত্র খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। পরদিন ৬ জুলাই সকালে স্থানীয় শাহবাজপুর হাভলী পাড়া জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ওই নিষ্পাপ শিশুর বিবস্ত্র ও নির্মমভাবে নির্যাতিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আটক করা হলে ও দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও মামলার তদন্তে কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি দেখছে না ভুক্তভোগী পরিবার। ধর্ষণ প্রমানিত হওয়ার পরও উপরন্তু, স্থানীয়ভাবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায় ঘটনাস্থল থেকে আটকৃত ইমাম মোয়াজ্জিন বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে এই মসজিদেই কর্মরত আছেন। পাড়া প্রতিবেশি সহ তাদের ডিএনএ টেস্টে করা হলে ময়নার কাপড়ে প্রাপ্ত ডিএনএর সাথে মিলে নাই। সমাজে প্রচলিত হচ্ছে যে টাকার বিনিময়ে ডিএনএর রির্পোট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তার কোনো বিচার হবে না। নিহত ময়নার মা লিপা আক্তার আবেদনে উল্লেখ করেন, “আমার স্বামী একজন প্রবাসী শ্রমিক। দীর্ঘদিন বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। আমাদের স্বপ্ন, আশা এবং ভবিষ্যৎ ছিল আমাদের মেয়ে ময়নাকে ঘিরে। কিন্তু আজ সেই সন্তানকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন মায়ের বুকের আর্তনাদ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” নির্দোষ সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তে স্বচ্ছতা ফেরাতে জেলা প্রশাসকের নিকট ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন এই অসহায় মা: ময়না হত্যা মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। ডিএনএ পরীক্ষাসহ সকল ফরেনসিক তদন্ত পুনরায় যাচাই অথবা উচ্চতর পর্যায়ে পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির সুযোগ না থাকে। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। একজন প্রবাসী পরিবারের সদস্য হিসেবে তারা যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আন্তরিক হস্তক্ষেপ। “একজন অসহায় মায়ের কান্না এবং একজন প্রবাসী বাবার আর্তনাদের প্রতি মানবিক বিবেচনায় আপনার সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর উদ্যোগ আমাদের শেষ ভরসা”— এমন আকুতি জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শাহবাজপুর (ছন্দু মিয়ার পাড়া) গ্রামের এই ভুক্তভোগী পরিবার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ বলেন, স্মারকলিপি গ্রহন করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবো। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
