
সরাইল ব্রাহ্মণবাড়ীয়া : জলমহাল ও নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্য ভাণ্ডার ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ ‘রিং জাল’ বা ‘কারেন্ট জাল’ দিয়ে মাছ শিকারের প্রস্তুতি এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায়। সম্প্রতি উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ফতেপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এক আশঙ্কাজনক চিত্র। সেখানে জেলেরা কোনো ধরনের আইনি তোয়াক্কা না করে নিজ নিজ বসতবাড়ির আঙিনায় মৎস্য নিধনের এই মারণাস্ত্র তথা রিং জাল প্রস্তুত করছেন। বিভিন্ন চোরাই কারখানা থেকে আনা এসব জালের খণ্ডগুলো স্থানীয় জেলেরা নদী ও জলাশয়ে পাতার জন্য একত্রিত করছেন, যা দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফতেপুর গ্রামের সচেতন বাসিন্দারা ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এই সর্বগ্রাসী রিং জালের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে স্থানীয় খাল, বিল ও নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জালের সুক্ষ্ম ছিদ্রের কারণে রেণু পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এতে আটকে মারা পড়ছে। ফলে এক সময়ের রূপালী ইলিশ ও হরেক রকমের সুস্বাদু দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ সরাইল থেকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এক দশক আগেও যেখানে সামান্য বর্ষার পানিতেই প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া যেত, সেখানে এখন অথৈ জলরাশি থাকা সত্ত্বেও জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা পাচ্ছেন না।
প্রাকৃতিক মাছের এই চরম আকালের কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুরের কৃত্রিম উপায়ে চাষ করা মাছের ওপর নির্ভর করছেন। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলেন, “নদী ও বিলের মুক্ত জলাশয়ের দেশীয় মাছের যে অনিন্দ্য স্বাদ ও পুষ্টিগুণ, তা কৃত্রিম হরমোন ও ফিড খাইয়ে চাষ করা পুকুরের মাছে কখনোই পাওয়া যায় না।”
সরাইলের সচেতন নাগরিক সমাজ তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন—কীভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মৎস্য অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন নিষিদ্ধ ও ধ্বংসাত্মক জাল প্রকাশ্যে প্রস্তুত এবং জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে? একে স্থানীয় প্রশাসনের চরম অসচেতনতা নাকি পরোক্ষ গাফিলতি হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলাশয়গুলোকে পোনা মাছের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রে রূপান্তর এবং দেশীয় মৎস্য বংশবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সরাইলবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। অবিলম্বে ফতেপুরসহ পাকশিমুল ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে টাস্কফোর্সের ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে এই নিষিদ্ধ রিং জাল চক্রের হোতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
