দুই মিনিটের মাইকে রুমিন ফারহানা, উত্তপ্ত সংসদ বক্তব্য ঘিরে হট্টগোল

ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘একজন সদস্য কথা বলছেন, বাধা দেওয়া আনডেমোক্রেটিক’ জাতীয় সংসদে মাত্র কয়েক মিনিটের বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
12790
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

দুই মিনিটের মাইকে রুমিন ফারহানা, উত্তপ্ত সংসদ বক্তব্য ঘিরে হট্টগোল

ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘একজন সদস্য কথা বলছেন, বাধা দেওয়া আনডেমোক্রেটিক’ জাতীয় সংসদে মাত্র কয়েক মিনিটের বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকার পর মাইক্রোফোন হাতে পেয়েই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একের পর এক কড়া মন্তব্যে সংসদে শুরু হয় তীব্র হট্টগোল ও বাদানুবাদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে অপেক্ষা করার পর রুমিন ফারহানা কথা বলার সুযোগ পান। সময় ছিল অল্প—কিন্তু সেই অল্প সময়েই তিনি সরকারের নীতি, দুর্নীতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং ঋণখেলাপি প্রসঙ্গ টেনে সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দেন। 

বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট থাকবে না, দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না কিংবা ঋণখেলাপিতে শীর্ষে থাকবে না।এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে রুমিন ফারহানাও থেমে থাকেননি। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগকে সমালোচনা করলেও সংসদে হট্টগোল হতো; এখন বিএনপিকে নিয়ে কথা বললেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এরপর তিনি সংসদের অধিকাংশ সদস্য ঋণখেলাপি—এমন অভিযোগও করেন বলে জানা গেছে।

 নির্বাচনের আগে আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গও তিনি সামনে আনেন। এ বক্তব্যের পর সংসদে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একের পর এক সদস্যের প্রতিবাদ, চিৎকার ও টেবিল চাপড়ানোর শব্দে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, একজন সম্মানিত সদস্য যখন বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন তাঁকে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক সংসদীয় আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

কারও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় তার জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু বক্তব্য চলাকালে চিৎকার-চেঁচামেচি করে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রুমিন ফারহানার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরও সংসদে উত্তেজনার রেশ থেকে যায়। সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া ও টেবিল চাপড়ানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেই পর্ব। মাত্র কয়েক মিনিটের বক্তব্য যেন মুহূর্তেই সংসদকে পরিণত করে রাজনৈতিক উত্তাপের মঞ্চে। ঘটনাটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সংসদ কি যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা যুক্তির গণতান্ত্রিক মঞ্চ, নাকি রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ ও হট্টগোলের জায়গায় পরিণত হচ্ছে? গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা থাকবে, তীব্র সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু সেই ভিন্নমত প্রকাশের ভাষা ও সংসদীয় শিষ্টাচারই একটি কার্যকর সংসদের পরিচয় বহন করে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ