ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী টাউন খালের পৈরতলা অংশ থেকে মাটি অপসারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পূর্ণাঙ্গ খননের মাধ্যমে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’।
আসন্ন শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি এ দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, ভারতীয় অর্থায়নে নির্মাণাধীন ফোরলেন সড়ক প্রকল্পের কাজের সুবিধার্থে টাউন খালের পৈরতলা ব্রিজ অংশে খাল ভরাট করে একটি অস্থায়ী ডাইভারশন সড়ক তৈরি করা হয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য খালের ওপর নির্মিত ওভারপাসের ২২ নম্বর পিলারটি খালের ঠিক মাঝখানেই স্থাপন করা হয়।
শর্ত ছিল, কাজ শেষে খালের মধ্য থেকে ভরাটি মাটি পুরোপুরি সরিয়ে নেয়া হবে এবং পিলারের দুই পাশে ৫০ ফিট করে মোট ১০০ ফিট এলাকা থেকে মাটি অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ও প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আবেদনের ভিত্তিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে পৈরতলা এলাকা পরিদর্শন করেন। সেই সময়ে ডাইভারশন সড়কটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হলেও খাল থেকে জমে থাকা মাটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি। এর পরপরই প্রশাসনিক পরিবর্তন ও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে খাল পুনরুদ্ধারের বিষয়টি থমকে যায়।
সামনে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। তরী বাংলাদেশের মতে, এই শুষ্ক মৌসুমের প্রথম এক-দুই মাস কার্যকর পদক্ষেপ নিলে খালের দীর্ঘদিনের এই সংকট দূর করা সম্ভব।
তাই সংস্থাটি আশু পদক্ষেপ হিসেবে পৈরতলা অংশ থেকে শুরু করে পশ্চিমের গোকর্ণ ঘাট এবং পূর্বের থানা ব্রিজ ও টানবাজার এলাকা পর্যন্ত খালের সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দ্রুত খননকাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।