মো মনির হোসাইন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র্যালি ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশ।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের প্রেসক্লাব চত্বর থেকে র্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, আশপাশের নালা ও পানি জমে থাকে—এমন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার কামড়ে এ রোগ ছড়ায়। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ফুলের টবের নিচের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র ও খোলা পানির ট্যাংক এ মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরীক্ষা করা এবং পানির পাত্র অন্তত সপ্তাহে একবার খালি করে পরিষ্কার করা জরুরি।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। জ্বরের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি কিংবা রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
আয়োজকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা মশা নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে।
র্যালি শেষে বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ, খেলাঘর সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, তরী বাংলাদেশ আহবায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী, সুশান্ত পাল, সোহেল রানা ভূঁইয়া, আব্দুল হেকিম, সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব নোমান আহমেদ, সদস্য খোকন মিয়া, তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সহকারী পরিচালক সুজন সরকার, সোনালী সকালের জুবায়েদ আহমেদ, বিআইডব্লিউটিএর সারেং মো. আল আমিন, পথপ্রাণী সুরক্ষা সংগঠক তাসিন আরাফাত প্রমূখ।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।