হাইতিতে চার সালভাদোরান জিম্মি সেনা উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানের পর উদ্ধারকৃত চারটি মৃতদেহ তাদের সেনাসদস্যদের নয় বলে জানিয়েছেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে। একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) হাইতির একটি বিমানবন্দরে চার সালভাদোরান বিমান কৌশলবিদের লাশ দাবি করে এসব দেহাবশেষ হস্তান্তর করে। তবে বুকেলে জানান, হস্তান্তর করা মৃতদেহের মধ্যে একটি শিশুর লাশ এবং অন্য একটিতে ভিন্ন দেশের সামরিক পোশাক পরা ছিল।
এর আগে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের অতর্কিত হামলায় নিখোঁজ হওয়া চার সেনাকে উদ্ধারে বৃহস্পতিবার শত শত সৈন্যের সমন্বয়ে একটি সামরিক কন্টিনজেন্ট পাঠায় এল সালভাদর। জিম্মি হওয়া সেনাসদস্যরা হাইতিতে ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘ সমর্থিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সের (জিএসএফ) অংশ ছিলেন। ক্রয়েস-দেস-বুকেটস নামক গ্যাং নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি সাঁজোয়া যানে করে ক্যাম্পে ফেরার পথে তারা আক্রমণের শিকার হন। এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধী চক্র এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
প্রেসিডেন্ট বুকেলে পূর্বে জানিয়েছিলেন, হাইতিতে সালভাদোরান সামরিক অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল চার সেনাকে জীবিত ফিরিয়ে আনা। হাইতিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘লে নুভেলিস্ট’-এর তথ্যমতে, এই অভিযানে প্রায় ৪৫০ জন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে হস্তান্তরিত মৃতদেহগুলো পরীক্ষা করে বুকেলে জানান, প্রাপ্ত একটি লাশ তাদের বিমান কৌশলবিদদের চেয়ে বহুগুণ লম্বা ছিল এবং তাতে ভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর পোশাক ছিল। এছাড়া সেই দেহাবশেষের সাথে অন্যান্য দেশের পরিচয়পত্র ও পোশাক পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হস্তান্তরিত উপকরণের মধ্যে আফ্রিকার দেশ চাদের একজন জিএসএফ সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও কার্ড রয়েছে। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে সালভাদোরান মিশনের নিকটবর্তী সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল যে, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের উপকণ্ঠে পাওয়া মৃতদেহগুলো নিখোঁজ সেনাদের হতে পারে। তবে বুকেলের এই বক্তব্যে সেই প্রতিবেদনের বিষয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, হস্তান্তর করা দেহগুলো ভীষণভাবে আগুনে দগ্ধ ছিল, ফলে শনাক্তকরণের জন্য মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, বুকেলে যে পরিচয়পত্র পোস্ট করেছেন তা মূলত এক সেনার, যিনি আহত হওয়ার সময় এটি হারিয়ে ফেলেছিলেন।
হাইতিতে বেশ কয়েক বছর ধরে সহিংসতা চললেও ২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক শূন্যতায় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেয়। সহিংসতা দমন ও সশস্ত্র গ্যাংগুলোকে প্রতিহত করতে প্রেরিত বহুজাতিক বাহিনী অপরাধীদের প্রধান অঞ্চলগুলোতে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘের অক্টোবরের শুরুর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গ্যাং সহিংসতা ও বিরোধী অভিযানে ৫,৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বুকেলে বলেন, নিখোঁজ চার জিএসএফ সদস্য মূলত চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি উদ্ধারকাজ এবং জীবন বাঁচানোর দায়িত্বে ছিলেন, কোনো যুদ্ধ পরিচালনা করতে যাননি। অপহৃত হওয়ার পরপরই তাদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার মোতায়েনসহ একাধিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও ওই এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল বলে জানিয়েছে এল সালভাদরের সশস্ত্র বাহিনী।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।