পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান’ (এসবিপি) তাদের প্রধান নীতিগত সুদের হার বা পলিসি রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর দেশটিতে এটিই প্রথম সুদহার বৃদ্ধির ঘটনা। করাচিতে মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জামিল আহমদ এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে নতুন এই সুদের হার কার্যকর হবে।
গভর্নর জামিল আহমদ জানান, মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে নয়জন সদস্য নীতিগত সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে একজন সদস্য আরও বড় অঙ্কের সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছিলেন। মূলত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে গভর্নর জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উপাদানগুলো মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কারণও এর পেছনে দায়ী, যেমন গত দুই-তিন মাসে গম বা আটার দাম বৃদ্ধি পাওয়া।
এসবিপির তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত আগস্ট মাসে বেড়ে ১১.১ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে তা কিছুটা কমে ১০.২৬ শতাংশে নামলেও, ব্যাংকটির মাঝারি মেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা ৫ থেকে ৭ শতাংশের চেয়ে এটি এখনও অনেক উপরে রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও প্রত্যাশাও ঊর্ধ্বমুখী।
মুদ্রানীতি কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যথাযথ নীতিগত পদক্ষেপ ও বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কার প্রভাব এ পর্যন্ত কিছুটা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি, চলতি হিসাবের ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের নেতিবাচক প্রভাব রোধ করা এবং মূল্যস্ফীতির সাশ্রয়ী প্রত্যাশা বজায় রাখতে এই সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।
সামগ্রিক অর্থনীতির পূর্বাভাস বজায় রেখে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫ শতাংশ থেকে ৪.৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। পাশাপাশি ব্যাংকটি রপ্তানি আয় ৩২.৫ বিলিয়ন ডলার, আমদানি ব্যয় ৭১ বিলিয়ন ডলার এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ৪৫ বিলিয়ন ডলার হওয়ার প্রাক্কলন করেছে। বর্তমানে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ২১.৫ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ১০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে সুদের হার ১১.৫ শতাংশ করা হয়েছিল, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে প্রথম বৃদ্ধি ছিল। তার আগে ২০২৩ সালের জুনে রেকর্ড ২২ শতাংশ সুদের হার থেকে পর্যায়ক্রমে ১০৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি আবারও কঠোর মুদ্রানীতির পথে হাঁটছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।