পাকিস্তানের করাচির ডিফেন্স হকাং অথরিটি (ডিএইচএ) এলাকায় খেলনা পিস্তল দেখিয়ে পথচারীদের ভয় দেখানোর একটি ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর বিপাকে পড়েছেন দুই তরুণ। সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আমলে নেওয়ার পর পুলিশ অভিযানে নামলে ওই দুই তরুণ শহর ছেড়ে পালিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, একটি গাড়িতে থাকা তরুণরা কথিত অস্ত্র দেখিয়ে হেঁটে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে এবং তাদের উত্যক্ত করছে। ডিএইচএ-র বিভিন্ন স্থানে এই ঘটনাগুলো চিত্রায়িত হতে দেখা যায়।
ভিডিওটি নজরে আসার পর সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া উল হাসান লাঞ্জার তদন্তের নির্দেশ দেন। দক্ষিণ অঞ্চলের ডিআইজি আসাদ রাজার নির্দেশনায় বিষয়টি তদন্ত এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়।
পুলিশ ওই এলাকাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং এক তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করে। তার নাম হাসান জাফর দায়ো। ভিডিওতে থাকা অপর মাস্ক পরিহিত তরুণ হাসান জাফরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানা গেছে।
অভিযানের সময় পুলিশ তাদের ব্যবহৃত গাড়ি এবং খেলনা পিস্তলটি জব্দ করেছে। একই সাথে তরুণদের নিরাপত্তা প্রহরীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই তরুণরা বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভিডিওটি বানিয়েছিল এবং পরবর্তীতে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সেটি এডিট করে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ভিডিওটি প্রকাশের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর যে অ্যাকাউন্ট থেকে এটি আপলোড করা হয়েছিল, তা মুছে ফেলা হয়। তবে পুলিশি অভিযানের মুখে ভিডিও প্রস্তুতকারী তরুণরা বর্তমানে শহর ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। তাদের পরিবারকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের আসল পরিস্থিতি যাচাই করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় ফুল বিক্রেতা এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্ধান করছে। ভিডিওর সত্যতা এবং এর দৃশ্যায়ন পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম দর্শনে মনে হচ্ছে ভিডিওর কিছু দৃশ্য এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ফরেনসিক ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার কাজ চলছে। অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য পেতে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শহরের নিরাপত্তা প্রহরী এবং অস্ত্র লাইসেন্সধারীদের প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের বিরুদ্ধেও করাচি জুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: ARY News Urdu

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।