বাংলাদেশ ডেস্ক: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে নৌ পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত একটার পর রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলাটি করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় সুনির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় তাহসিফের সঙ্গে থাকায় আলোচনায় আসা দীপকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে শুক্রবার রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ। নিখোঁজ হওয়ার আগে সন্ধ্যার সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফদের ভবনের নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তাহসিফের পরিচিত দীপ বলে শনাক্ত করেন। সেখানে তাঁদের হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
পরিবার জানায়, দীপের ডাকেই ওই দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তাঁর মা বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ আসে, যেখানে তিনি জানান ‘রওনা দিছি, আসতেছি।’ কিন্তু এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন বুধবার বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লাশ উদ্ধার করা হলেও পরে তাঁর সঙ্গে থাকা আইফোনের সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, দীপ ও তাহসিফ একসঙ্গে ছিলেন এবং রাজবাড়ী ঘাটে গিয়েছিলেন। পিবিআই হেফাজতে থাকার সময় দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা তাহসিফের বলে ধারণা করছে পুলিশ। বিষয়টির বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।