আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি দুর্নীতি। দ্য গার্ডিয়ানের জন্য হ্যারিস পরিচালিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পর ভোটারদের কাছে দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারি দুর্নীতি। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোতে জালিয়াতি বন্ধের কথা তুলে ধরে এই পরিস্থিতি থেকে নজর সরানোর চেষ্টা করছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি একটি অ্যান্টি-ফ্রড টাস্কফোর্সের মাধ্যমে স্ন্যাপ (SNAP) বা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে ৪ কোটি ডলার জালিয়াতি উন্মোচনের ঘোষণা দেন। এছাড়া ওবামাকেয়ারের আওতায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নেওয়া সাড়ে সাত লাখেরও বেশি মানুষের সুবিধা জালিয়াতির অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।
প্রশাসন দাবি করছে যে, নিম্ন আয়ের কিছু সুবিধাভোগী সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারি তহবিলের জালিয়াতি ধরে দিতে পারলে ১ শতাংশ কমিশন দেওয়ার ঘোষণা পর্যন্ত দিয়েছেন। তবে এই কৌশল সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে পারছে না বলেই জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ভোটাররা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা খাদ্য সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ততটা চিন্তিত নন, যতটা তারা নির্বাচিত কর্মকর্তাদের নিজ বা দাতাদের আর্থিক স্বার্থকে জনগণের স্বার্থের উপরে স্থান দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা ৬৫ শতাংশ ভোটারই এই ধরনের দুর্নীতিকে একটি বড় সমস্যা মনে করছেন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ দুর্নীতি ধারণা সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও পিছিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও তাঁর পরিবারের নানা ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগের কারণে সরকারের এই ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের সহযোগীরা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেছেন যে ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার আগেই বিলিয়নেয়ার ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ নেই।
এদিকে ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য রোজা দেলরো ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অর্জিত আর্থিক সুবিধার একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এতে বিদেশি সরকারের কাছ থেকে বিলাসবহুল উপহার, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায় বিপুল বিনিয়োগ এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড জুনিয়র এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চুক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের জবাবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ট্রাম্প পরিবার কখনোই কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়ায়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অনুদানের বিনিময়ে ক্ষমা বা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।