— বিজ্ঞাপন —

জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাজপথে হাজারো মানুষ

ইতালিতে মজুরি বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস ও সামরিক ব্যয় কমানোর দাবিতে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেছে হাজারো শ্রমিক ও শিক্ষার্থী।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাজপথে হাজারো মানুষ
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন

ইতালিতে শ্রমিকের মজুরি বাড়ানো, সরকারি সেবা জোরদার করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে তারা সরকারের সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গত শুক্রবার আয়োজিত এই বিক্ষোভের বড় একটি অংশজুড়ে ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমিকেরা।

শ্রমিক সংগঠন ‘ইউনিওনে সিনদাকালে দি বাসে’ (ইউনিয়ন অব বেসিক ট্রেড ইউনিয়নস) এই ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। আন্দোলন সফল করতে দেশের ৪০টিরও বেশি শহরে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইতালিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ দোকানপাটে লুটপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। তবে গত শুক্রবারের বিক্ষোভ আন্দোলনটি বেশির ভাগ জায়গায় শান্তিপূর্ণ ছিল, যদিও কয়েকটি এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুরিনে কেন্দ্রীয় সরকারের স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে পুলিশের তৈরি নিরাপত্তাবেষ্টনীর দিকে এগিয়ে যান বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও বামপন্থী কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাঁদের ঠেকাতে জলকামান ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানী রোমে ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের কাছে বড় একটি মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা ঘোষণা দেন, সেখানে তাঁবু খাটিয়ে পুরো সপ্তাহান্ত অবস্থান নেবেন। সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের একটি বড় দল দেশের পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ইতালীয় বার্তা সংস্থা এএনএসএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রোমেও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। বারবার পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে মিলান শহরে বিক্ষোভকারীরা শহরের রিং রোডে মিছিল করেন। পরে পলিটেকনিকো দি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে তাঁদের কর্মসূচি শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে মশাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়।

জেনোয়া বন্দরে প্রায় ১৫ হাজার বন্দরশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও অন্য বিক্ষোভকারী একত্র হন। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তাঁরা বন্দর ব্যবহার করে অস্ত্র রপ্তানির তীব্র বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন সংঘাতময় এলাকায় নাবিকদের প্রাণহানির বিষয়টিও তাঁরা তুলে ধরেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা সামাজিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ইতালির পাশাপাশি ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াতেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করা গেছে।

সূত্র: প্রথম আলো
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗