যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মধ্যবর্তী ভোটে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে রিপাবলিকানরা। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনার আবশ্যকতা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন মতে, জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দর এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ব্যয়বহুল যুদ্ধের জেরে ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে হোয়াইট হাউসের একচ্ছত্র ক্ষমতার সুযোগ কমছে। ফলে নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে গঠিত হতে যাওয়া কংগ্রেস ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন আইন পাসে বাধা তৈরি, নতুন কর্মকর্তা ও বিচারক নিয়োগে স্থগিতাদেশ তৈরি করা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বিজয়ের পর বলেন, ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের প্রভাব কমে আসছে। তিনি আগামী অধিবেশনে মার্কিন ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে পারেন।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী থাকলে রিপাবলিকান পার্টি বড় ব্যবধানে জিতত। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের পাস করা বিলসমূহে ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করার সতর্কবার্তাও প্রদান করেন তিনি। যদিও ট্রাম্প প্রকাশ করেন যে নতুন কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা এবং আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করার জায়গা এখনও খোলা রয়েছে।
সিএনএনের বরাতে জানানো হয়, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২২৮টি আসন অর্জন করেছে এবং রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১২৬টি আসন। এছাড়া ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা মোট ৫৪টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এই নির্বাচনে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থি এবং জনতুষ্টিবাদী ধারার সব স্তরের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অজনপ্রিয় শুল্কনীতি, স্বাস্থ্যসেবা বাজেট কমানো এবং নানা অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ডেমোক্র্যাটদের জয় ত্বরান্বিত করেছে। ক্যানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় লাভ করেন। ক্যানসাসে প্রায় ৯৪ বছর এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় তিন দশক পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হলেন। টেক্সাস ও ওহাইওসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ আসনেও পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে কিশা ল্যান্স গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন, যিনি মার্কিন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবদুল এল-সায়েদ সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসবে ইতিহাস গড়েছেন। ৪২ বছর বয়সী এই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানোর উপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ তাকে চরমপন্থার সঙ্গে জড়িত করার নানা অভিযোগ করলেও তা প্রমাণিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া আশা প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবেন। চীনের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মনে করেন এই নির্বাচনের ফলে মূল মার্কিন নীতিতে বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে যুদ্ধের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর তাৎক্ষণিকভাবে ইরানে কোনো নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা তার নেই।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।