জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং দেখতে এসে বহু দর্শক মুঠোফোন হারিয়েছেন। গত শনিবার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘি পাড়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোলাম রতন (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় নির্মিত ‘ইত্যাদি’র শুটিং দেখতে শনিবার সকাল থেকেই দর্শকেরা নান্দাইল দীঘি এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। দিনভর সেখানে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরুর আগে নান্দাইল দীঘি কলেজের প্রবেশ ফটকে দর্শকদের প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। এ সময় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চোর ও পকেটমার চক্রের সদস্যরা দর্শনার্থীদের পকেট ও ব্যাগ থেকে মুঠোফোন চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে মুঠোফোন হারানো বেশ কয়েকজন দর্শকের সঙ্গে কথা বলা হলে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা থেকে আসা সরোয়ার জাহান জানান, সন্ধ্যার দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে ফটক দিয়ে মাঠে প্রবেশের পরই তিনি দেখতে পান যে তাঁর পকেটে মুঠোফোনটি নেই। এভাবে উপস্থিত আরও অনেক দর্শকের মোবাইল খোয়া যাওয়ার কথা জানা গেছে, তবে মোট কতটি মুঠোফোন চুরি হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সহায়তায় আড়াই শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ৫০ জন স্কাউট স্বেচ্ছাসেবক এবং ১০০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এত কড়া নিরাপত্তার মাঝেও দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, ইত্যাদি অনুষ্ঠান দেখতে এসে অনেকের মুঠোফোন খোয়া গেছে। তবে মোট চুরির সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দর্শকদের থানায় এসে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চুরির সন্দেহে গোলাম রতন নামের একজনকে আটক করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কাছ থেকে খোয়া যাওয়া কোনো মুঠোফোন উদ্ধার করা যায়নি।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।