ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইয়াবা মামলায় দম্পতির ১০ বছরের কারাদণ্ড

লেখক: জহির শাহ্,
প্রকাশ: ১০ মাস আগে
এক দম্পতির দশ বছরের জেল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আটশ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের সাত বছর পর বহুল আলোচিত রায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বহুল আলোচিত একটি মাদক মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়েছে, যেখানে এক দম্পতিকে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সাত বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়া এই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলাম।

দণ্ডিতরা হলেন জেলার আখাউড়া উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মন্নাফ (৪২) ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগম (৩২)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯৭৪ সালের সংশোধিত ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অভিযানের সময় স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই আটক করা হয় এবং তাদের দেহ তল্লাশি করে ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইয়াবা বহনের কথা অস্বীকার করলেও পরে র‍্যাব যথাযথ আলামতসহ তাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলাটির তদন্ত ভার পান র‍্যাব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালতে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দাখিল করেন, যেখানে দম্পতিকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। সাত বছর ধরে চলা শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ একাধিক সাক্ষী উপস্থাপন করে, যারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ও অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম উভয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার গণমাধ্যমকে জানান, রায় ঘোষণার সময় আবদুল মন্নাফ ও রোকসানা বেগম দু’জনেই এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এ মামলার রায়কে ঘিরে আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। আইনজীবী মহল বলছে, দীর্ঘ সময় পরে হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিচার বিভাগ গত কয়েক বছরে মাদক সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করে আসছে। এই রায় সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।