
একাধিক দল যদি জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠন করে এবং সেই সরকারের প্রধান দল কোনোপ্রকার দুর্নীতি করে, তবে জোটের অন্যান্য দলও তার দায়বদ্ধ থাকবে—এমনটাই মনে করেন অনেক মানুষ।
তবে বিষয়টি একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে, এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন:
১. আইনগত দিক:
আইন অনুযায়ী, যারা সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
জোটের অন্য কোনো দল যদি দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িত না থাকে, তবে কেবল জোটে থাকার কারণে তারা আইনগতভাবে অপরাধী হবে না।
২. রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়:
রাজনীতিতে নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
জোটের অন্য দলগুলো সরকারে অংশগ্রহণ করলে, তারা কিছু না বলেও পরোক্ষভাবে অপরাধের দায়ে জড়িয়ে পড়তে পারে।
কারণ—
•তারা একই সরকারের অংশীদার।
•সরকার পরিচালনায় তারা সমান সুবিধা ভোগ করে।
•তাদের নীরবতা অনেক সময় সম্মতির ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হয়।
৩. প্রতিবাদের ভূমিকা ও দায়মুক্তি:
যদি কোনো জোটসঙ্গী দল সরকারে থেকেও দুর্নীতির তীব্র প্রতিবাদ করে এবং সক্রিয়ভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে তারা নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়মুক্ত থাকতে পারে।
বিশেষ করে—
•যদি তারা সংসদ, জনসভা বা গণমাধ্যমে দৃঢ় প্রতিবাদ করে,
•এমনকি প্রয়োজনে জোট ছাড়ার হুমকি বা পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
৪. জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি:
সাধারণ জনগণ অনেক সময় আইনগত জটিলতা না বুঝে সব দলকে একসঙ্গে দায়ী করে।
তবে, যদি কোনো দল প্রকাশ্যে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করে,
তবে জনগণও বুঝতে পারে—
কোন দল অপরাধ-দুর্নীতিতে জড়িত, আর কোন দল জোটে থেকেও তীব্র প্রতিবাদ ও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
সেক্ষেত্রে—
•ওই দলটি জনগণের প্রশংসা পেতে পারে।
•জনগণ বুঝতে পারে, তারা জোটসঙ্গী হয়েও অপরাধকে প্রশ্রয় না দিয়ে সাহসী প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেছে।
জোটে থেকেও যদি কোনো দল সরকারের প্রতিটি অপরাধ ও ভুলের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রতিবাদ করে,
তবে জনগণের আস্থা অর্জন করাও সম্ভব হয়।
৫. সরকারে চাপ সৃষ্টি:
অনেক সময় জোটসঙ্গী দলের প্রতিবাদে সরকারের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়,
ফলে দুর্নীতি ও অপরাধের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসে।
সেক্ষেত্রে-
জোটসঙ্গী দল অপরাধের দায়ভার বহন করেনা, বরং জনগণ ও আইনের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাশীল হয়ে ওঠে।
তাই একাডেমিক বিশ্লেষণ ছাড়া, ঢালাওভাবে জোটবদ্ধ সরকারের সব অপরাধের দায়ভার অন্য দলগুলোর ওপর চাপানো উচিত নয়।
বরং প্রত্যেক দলকে তাদের অবস্থান, ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনায় বিচার করতে হবে।
দায় নির্ভর করে দলের অবস্থান ও সাহসী ভূমিকার ওপর। নীরবতা দায় ডেকে আনে, আর প্রতিবাদ আস্থার পথ খুলে দেয়।
~মাওলানা আরিফ আব্দুল্লাহ
বি.এস.এস(অনার্স) রাষ্ট্রবিজ্ঞান
