ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক মক্তব তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চিলাোকুট ঈদগাহ মাঠে এ আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন মসজিদের মক্তবের শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মুহসিনুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাদেকপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আল-মামুন। সঞ্চালনায় ছিলেন ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইসহাক আল-হুসাইন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন মাওলানা ওমর ফারুক বিন সফিউল্লাহ মাস্টার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে মক্তব শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শৈশব থেকেই বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
মাওলানা জালালুদ্দিন বিরামপুরী বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাদেকপুর ইউনিয়ন শাখার এ আয়োজন অত্যন্ত চমৎকার। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাফেজ মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, মক্তবভিত্তিক এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের একটি কার্যকর মাধ্যম। এ আয়োজন যেন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
হাজী শহীদ মেম্বার বলেন, মক্তবের শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে নিজেদের মা-বাবা ও সমাজের মানুষের জন্য দোয়া করবে। তাই সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রতি অভিভাবকদের যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।
মাওলানা এনামুল হাসান বলেন, সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষা দিতে হবে। তাদের ভিত্তি মজবুত হলে ভবিষ্যতে তারা যে পেশাতেই যাক না কেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা কমবে। সন্তানদের মক্তবে পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কোনো ধরনের কার্পণ্য করা উচিত নয়।
মাওলানা আবু ইউসুফ মাহমুদী বলেন, এ প্রতিযোগিতার পরিসর ছোট হলেও আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান অনেক বড় হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের হাফেজ আল-মামুন প্রতিবছর এ মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সবাইকে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে শিশুর স্বভাবজাত ধর্মীয় প্রবণতা এবং মা-বাবার প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই সন্তানদের সঠিক দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই নিতে হবে। মক্তব শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
হাফেজ মাওলানা খন্দকার আবদুল আজিজ বলেন, সাদেকপুর ইউনিয়নে মক্তবভিত্তিক প্রতিযোগিতার এ উদ্যোগ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলিক কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ জন্য আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একসময় শিশুদের সকালে মক্তবে যাওয়ার যে প্রচলন ছিল, তা অনেক জায়গায় কমে গেছে। এ শিক্ষা পুনরুজ্জীবিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা আরও বলেন, শৈশবে কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষার চর্চা শিশুদের নৈতিকতা গঠনে সহায়ক। ধর্মীয় শিক্ষার অভাব সমাজে ভুল ধারণা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সাদেকপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আল-মামুন বলেন, মক্তবভিত্তিক প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ। ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের মক্তব পরিদর্শন করে শিক্ষার বেহাল দশা দেখতে পাওয়ার পরই তাঁরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মক্তব শিক্ষার প্রসার ঘটলে সমাজে অশান্তি, ছিনতাই ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি মুহসিনুল হাসানসহ অন্যান্য বক্তারা মক্তব শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।