ইনকিলাব জিন্দাবাদ ও আজাদী ঘিরে নতুন বিতর্ক: রাজনীতিতে শব্দের প্রভাব ও ভাষা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ২ মাস আগে
ইনকিলাব জিন্দাবাদ ও আজাদী ঘিরে নতুন বিতর্ক: রাজনীতিতে শব্দের প্রভাব ও ভাষা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের মুখে মুখে উচ্চারিত কয়েকটি শব্দের মধ্যে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘আজাদী’ ছিল প্রধান। সময়ের সঙ্গে রাজপথ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গেলেও হঠাৎ করেই রাজনীতির মঞ্চে ফিরে এসেছে এই শব্দগুলো, পাশাপাশি ‘ইনসাফ’, ‘মজলুম’, ‘ফয়সালা’, ‘বন্দোবস্ত’ ও ‘বয়ান’ও আলোচনায় এসেছে। কিছু বক্তা ও নেতারা তাদের বক্তৃতায় এসব শব্দ জোর দিয়ে ব্যবহার করছেন, আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষা এড়িয়ে নতুনভাবে এই শব্দগুলো ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে।

বিতর্ক এতদূর পৌঁছেছে যে সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। একজন মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, এসব শব্দের সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ক নেই। তবে ভাষাবিদরা বলছেন, এসব শব্দ কোনোভাবেই বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটাচ্ছে না, এছাড়া এগুলো ভাষার জন্য হুমকিও নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রসঙ্গে ব্যবহারের কারণে এই আলোচনায় আসছে, কারণ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তায় এসব শব্দ খুব কমই ব্যবহৃত হয়।

ইনকিলাব শব্দটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্দোলনকারীদের মুখে শোনা গেছে আজাদি, বন্দোবস্ত, বয়ান, ইনসাফ ও মজলুমের মতো শব্দ। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নেতাদের বক্তব্যের শেষে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ উচ্চারিত হওয়ায় বিষয়টি আরও সমালোচনার জন্ম দেয়। উল্লেখ্য, এই স্লোগানটি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিও ব্যবহার করে, যার অর্থ—বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।

বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় যখন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাষা শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় বলেন, বাংলাকে ধারণ করতে হলে এসব শব্দ চলবে না। এর পরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঢেউ উঠে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সরাসরি তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন, কেউ কেউ মন্ত্রীর মন্তব্যকে সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, ‘ইনকিলাব, ইনসাফ, আজাদি, মজলুম, বয়ান, বন্দোবস্তের মতো শব্দগুলো কোনোভাবেই ভাষার বিকৃতি নয় বা হুমকি নয়। ভাষা সব সময় অন্য ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে, ধ্বনি ও অর্থে পরিবর্তন ঘটিয়ে নিজের ভাণ্ডারে স্থান দেয়। তবে শব্দ যেন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভাজনের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করা উচিত।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিহাসে যেমন বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় একীভূত হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে শব্দের ব্যবহারও প্রভাবিত হয়। তাই বর্তমান বিতর্ক কেবল শব্দের নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় ও সমাজে শব্দের প্রভাব নিয়েও।

  • ইনকিলাব জিন্দাবাদ ও আজাদী ঘিরে নতুন বিতর্ক: রাজনীতিতে শব্দের প্রভাব ও ভাষা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে