ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সাড়ে ৩ লাখের বেশি যাত্রী আটকা, বিমান চলাচল ব্যাহত

লেখক:
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি বিমান যাত্রী আটকা পড়েছেন। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা ও ছাইয়ের ধোঁয়ার কারণে প্রায় ৩,০০০ ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিমানবন্দর দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি গত শুক্রবার গভীর রাতে জেগে ওঠে। অগ্ন্যুৎপাতের পর থেকে লাভাস্রোত নির্গত হওয়ার পাশাপাশি জাকার্তা এবং লামপুং প্রদেশ পর্যন্ত আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ে। পুরো সপ্তাহান্ত জুড়েই আগ্নেয়গিরিটি কম্পন ও সক্রিয়তার মধ্যে ছিল।

জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আকাশসীমায় ছাইয়ের উপস্থিতির কারণে পূর্বপরিকল্পিত সময়ে পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার রাত ২৩:৫৯ মিনিটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক ফ্লাইট পরিচালনা করা অপর ছোট বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমাহও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সোমবার জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়া এবং পরবর্তী ফ্লাইটের খবরের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পূর্ব জাভার মালাং থেকে জাকার্তায় ফেরার অপেক্ষায় থাকা ৪৬ বছর বয়সী ফিন্না জানান, বারবার সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং অনেক যাত্রী বিকল্প পথ হিসেবে ট্রেনে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

সংরক্ষণ সংস্থা ‘সেভ দ্য রাইনো ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রধান জো শ জানান, কর্তৃপক্ষ আনাক ক্রাকাতাউয়ের সতর্কবার্তা বাড়ানোর পর তারা জাভার উজং কুলোন জাতীয় উদ্যানে ক্যাম্পিং করার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে বালি ভ্রমণ শেষে মালয়েশিয়াগামী নবদম্পতি আমির হামজাও জানান, তাদের পরবর্তী ফ্লাইট ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা সোমবার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বিএমকেজি জানায়, আগ্নেয়গিরির ছাই জাভা অংশে ৬,০০০ মিটার এবং সুমাত্রা অংশ ও বানতেন প্রদেশে ১৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংস্থাটির মতে, রবিবারেও রাত ২০:২৩ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

পরিবহন মন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, গতিশীল আবহাওয়ার কারণে বিমানবন্দরগুলো কখন পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ছাইয়ের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করতে প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ সক্রিয় জ্বালামুখের ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি সুন্দা প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকেও এই বর্জনীয় এলাকায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় কোনো সুনামির পূর্বাভাস জারি করা হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে মাউন্ট ক্রাকাতাউয়ের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর গত শতাব্দীর শুরুতে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে আনাক ক্রাকাতাউ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরিটির একাংশ ধসে পড়ে একটি বিশাল সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে সুমাত্রা ও জাভার উপকূলীয় এলাকায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বজুড়ে থাকা সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি বড় অংশ রয়েছে।

সূত্র: BBC News – World

  • অগ্নেয়গিরি
  • অগ্ন্যুৎপাত
  • আনাক ক্রাকাতাউ
  • ইন্দোনেশিয়া
  • জাকার্তা
  • বিমান চলাচল