
অনলাইনে উগ্র বর্ণবাদী মন্তব্য ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যের সাবেক কর কর্মকর্তা টমাস ওয়েবস্টারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্ট। ২৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজেকে ‘চূড়ান্ত গণহত্যার বর্ণবাদী দানব’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। বিবিসি ওয়েলসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার আসল পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
ওয়ারউইকশায়ারের ল্যাপওয়ার্থের বাসিন্দা টমাস ওয়েবস্টার অনলাইনে বর্ণবাদী ঘৃণা ছড়ানোর ১০টি অভিযোগ স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক গোষ্ঠীকে হত্যা ও নিশ্চিহ্ন করার জন্য উসকানি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং যৌন পছন্দের ভিত্তিতে ঘৃণা ছড়ানোর দুটি পৃথক অভিযোগও আদালতে স্বীকার করেন তিনি।
বিবৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ওয়েবস্টার ইহুদি ও সমকামী ব্যক্তিদের নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের হত্যা করার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত হোটেলের কাছে নিজের এলাকা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়ার হুমকি দেন।
ওয়েবস্টার ব্রিটেনের চরম ডানপন্থী দল ‘প্যাট্রিয়োটিক অল্টারনেটিভ’-এর সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালে দলটির একটি অনুষ্ঠানে বিবিসির ছদ্মবেশী সাংবাদিক তার বক্তব্য গোপনে রেকর্ড করেন। রেকর্ডিংয়ে ওয়েবস্টার স্বীকার করেন যে, তিনি সরকারি রাজস্ব সংস্থা এইচএমআরসিতে কাজ করার সময় জেনেশুনে অ-শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করতেন।
বিবিসির এই তথ্যচিত্র সম্প্রচারের পর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েবস্টারকে চাকরিচ্যুত করে এইচএমআরসি। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের মানদণ্ড ভঙ্গের বিষয়ে তারা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে এবং তদন্ত শেষে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর পুলিশ তদন্তে নেমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সাথে ওয়েবস্টারের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে ওয়েবস্টার অপরাধ স্বীকার করেন।
আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, ওয়েবস্টারকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের ‘প্রিভেন্ট’ কর্মসূচিতে মোট চারবার পাঠানো হয়েছিল, যার প্রথমটি ছিল ২০১৭ সালে। এছাড়া তার বাসভবনের চিলেকোঠা থেকে অব্যবহৃত একটি ক্রসবো বা ধনুক উদ্ধার করে পুলিশ।
ওয়েবস্টারের আইনজীবী সুসান গেস্ট আদালতে বলেন, তার মক্কেল সামাজিক মেলামেশা ও মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের একাকী পরিবেশ তার উগ্র মনোভাবকে আরও জোরদার করেছিল। তবে বিচারক অ্যান্থনি পটার বলেন, ওয়েবস্টারকে সংশোধন হওয়ার বহু সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা কাজে লাগাননি। ফলে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার অর্ধেক সময় তাকে কারাগারে কাটাতে হবে।
সূত্র: BBC News – Top Stories
