ঈদযাত্রার আগে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তি, খাড়া সড়কে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ১ মাস আগে
ঈদযাত্রার আগে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তি, খাড়া সড়কে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ঈদুল ফিতরের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান নৌপথ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এখনো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া হয়ে পড়ায় ফেরিতে ওঠানামার সময় যানবাহন চালকদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। ঈদযাত্রা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়লে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

গত বর্ষায় পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে পাটুরিয়ার পাঁচটি ফেরিঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙনের প্রায় ছয় মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি সংস্কার করা হয়নি ঘাটগুলো। বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে যানবাহন পারাপার চলছে। নদীতে পানির স্তর কমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে নামাতে হয়েছে, ফলে সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোডগুলো অতিরিক্ত খাড়া হয়ে গেছে। এতে ফেরি থেকে ওঠার সময় অনেক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেরি থেকে নামা বা ওঠার সময় অনেক যানবাহনকে খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী চালকরা জানান, ঢাল বেয়ে ওঠার সময় মাঝে মাঝে যানবাহনের ব্রেক ফেল হয়ে পন্টুন কিংবা নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। গত বুধবার রাত আটটার দিকে পাঁচ নম্বর ঘাটে ফেরি থেকে নামার সময় একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আবদুস সালাম জানান, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে নামাতে হয়েছে, যার কারণে সংযোগ সড়ক খাড়া হয়ে গেছে। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য বিআইডব্লিউটিএকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার থেকে তিনটি ঘাটে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ঢাল কমানোর কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে সংস্কারকাজ চলার কারণে বর্তমানে যানবাহন পারাপারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ার আগেই কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংযোগ সড়ক সমান করার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে খাড়া সড়কগুলো স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের অবস্থাও বেশ নাজুক। গত আগস্টে মূল লঞ্চঘাটটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর দুই নম্বর ফেরিঘাটের পাশে পন্টুন বসিয়ে কোনোভাবে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। সেখানে নামার পথটিও অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ওঠানামায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে দ্রুত ঘাট সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

  • ঈদযাত্রার আগে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তি
  • খাড়া সড়কে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার