ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম।

লেখক:
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম।

মুরাদ মিয়া,সুনামগঞ্জ: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য,তাহিরপুর বড়ছড়া কয়লা আমদানি কারক গ্ৰুপের সভাপতি এবং সাবেক শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম।

এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বলেন,১২ই রবিউল আউয়াল বুধবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের সামনে সত্য ও আলোর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম আরও
বলেন, মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহ সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করেন এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম জ্ঞাপন করেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা,আমানতদারি,ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা,সহনশীলতা,দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি,বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম বলেন,যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

দেশের তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,তরুণদের মাদক,সন্ত্রাস,উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধ শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

শুভেচ্ছাবার্তায় আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম মহান আল্লাহর কাছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বত্র শান্তি, ন্যায়,সাম্য,সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা জানান।

সবশেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম।