ঋণমানের পূর্বাভাস বৃদ্ধি অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাবে, তবে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি: মাসরুর রিয়াজ

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা মুডিস বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস বাড়ানোয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে। তবে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, এটিকে চূড়ান্ত অর্জন না ধরে অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ঋণমানের পূর্বাভাস বৃদ্ধি অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাবে, তবে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি: মাসরুর রিয়াজ
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

অর্থনীতি ডেস্ক: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন

দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা মুডিস বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

মাসরুর রিয়াজ জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থাগুলোর মূল্যায়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে মুডিসের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা যাবে। যদিও মূল্যস্ফীতি এখনো একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে, তবুও সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যালান্স অব পেমেন্টের পরিস্থিতি ভালো হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।

দেশে জ্বালানিসংকট কয়েক বছর ধরেই বজায় রয়েছে এবং এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে সমস্যাটিকে আরও গুরুতর করেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা এবং ভাবমূর্তি সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মুডিসের পূর্বাভাস বৃদ্ধি একটি আশাব্যঞ্জক সংকেত। তবে এটিকে চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন মাসরুর রিয়াজ।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক পরিসরে ফিচ এবং এসঅ্যান্ডপি-র মতো আরও দুটি প্রধান ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা রয়েছে, যাদের পূর্বাভাস বাংলাদেশে এখনো নেতিবাচক অবস্থায় আছে। তাই কেবল একটি সংস্থার পূর্বাভাস বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট না থেকে অন্যান্য সংস্থাসমূহের মূল্যায়নে যেন উন্নতি ঘটে, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন যে, ঋণমানের পূর্বাভাসের উন্নতি আর প্রকৃত ঋণমানের উন্নতি এক বিষয় নয়। পূর্বাভাসের পরিবর্তন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ঋণমান উন্নত করার জন্য অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতাগুলো দূর করা আবশ্যক। এর জন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম গতিশীল করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সার্বিক চাহিদা কেবল প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের বিনিয়োগ অর্থায়নের বড় অংশই ব্যাংক খাত থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অবকাঠামো, জ্বালানি ও শিল্প খাতের মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোতে ব্যাংকঋণ দিয়ে চাহিদা মেটানো কঠিন। তাই দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি করা জরুরি।

বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করতে তার ঋণমানকে প্রধান সূচক হিসেবে দেখেন। ফলে ঋণমানের বাস্তব উন্নতি হলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পাওয়ার পথ সহজ হবে।

পরিশেষে, ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের ঘাটতি দূর করার ওপর জোর দিয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমগুলোকে আরও জোরদার করতে হবে। কোন সময়ে কোন সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা দরকার। ধাপে ধাপে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনীতির মৌলিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঋণমান চূড়ান্তভাবে উন্নত করার শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে।

অথেন্টিক সোর্স: প্রথম আলো
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ