— বিজ্ঞাপন —

ঋতুচক্রের ওলটপালট, চৈত্রের দাবদাহ উধাও, জেঁকে বসেছে পৌষের শীত

Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

স্টাফ রিপোর্টার: “হিতে বিপরীত, বিপরীতে হিত / চৈত্র মাসে পৌষের শীত” খনার বচনের মতো শোনানো এই পঙক্তিটিই এখন ঢাকা ও এর আশপাশের জনপদে বাস্তব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋতুচক্রের হিসেবে এখন চৈত্রের মাঝামাঝি। তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে যেখানে তালপাখা হওয়ার কথা ছিল নিত্যসঙ্গী, সেখানে মানুষ এখন গায়ে দিচ্ছে কাঁথা আর কম্বল। প্রকৃতির এই আকস্মিক উল্টো রথে খোদ আবহাওয়া বিদরাও বিস্মিত।
সাধারণত চৈত্র মাস মানেই কাঠফাটা রোদ, খাল-বিল শুকিয়ে চৌচির হওয়া আর খাঁ খাঁ দুপুর। প্রতিবছর এই সময়ে হাতপাখা বা বৈদ্যুতিক পাখার নিচেও স্বস্তি মেলে না। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মার্চে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সবুজ প্রান্তর, আর রাতে আলমারি থেকে বের করতে হচ্ছে তুলে রাখা কাঁথা ও কম্বল।
যেখানে চৈত্রের দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার কথা, সেখানে মানুষ এখন সর্দি-কাশির মতো শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এই অকাল শীত ও বৃষ্টির মিশ্রণে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে আম ও লিচুর মুকুল এবং বোরো ধানের জন্য এই আবহাওয়া মোটেও অনুকূল নয়। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রোজা বা ঈদের পরবর্তী এই সময়ে তপ্ত গরমের বদলে শীতল আবহাওয়া অনেককে প্রশান্তি দিলেও, প্রকৃতির এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
চৈত্রের এই রূপ যেন কবির সেই চিরন্তন বাণীর প্রতিচ্ছবি প্রকৃতি যখন রুষ্ট হয়, তখন নিয়ম ভেঙে সে নিজের নতুন রূপ প্রকাশ করে। তবে যে কারণেই হোক, চৈত্রের দুপুরে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর এই বিরল অভিজ্ঞতা দোহার-নবাবগঞ্জ তথা সারা দেশের মানুষের কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗