কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে সাত সদস্যের এই তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পরিদর্শনকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। অগ্নিকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীরভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি প্রশাসনের অনুমোদন ছিল না।
তদন্ত কমিটির প্রধান আরও জানান, কোনো অনুমোদন ছাড়া এত বড় ব্যবসা পরিচালনা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্বে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির সব অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আগুনে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে মরদেহের অবস্থা বিবেচনা করে নির্দিষ্টভাবে কোনটি কার মরদেহ, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি, যাদের মধ্যে দুজন নারী, একজন শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছেন।
শনিবার সকালে কাঠের তৈরি তিনতলাবিশিষ্ট টুপটুপ রিসোর্টটিতে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ১০ জন পর্যটক প্রাণ হারান এবং অন্তত ছয়জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতদের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শনিবার বিকেলেই চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন আহত ব্যক্তি বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এ বিষয়ে জানান, আগুনে পুড়ে নিহত ১০ জনের মরদেহ সম্পূর্ণ অঙ্গার হয়ে গেছে। ফলে নিখুঁতভাবে মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র: সমকাল

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।