আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট কবি, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক ও গবেষক কেতকী কুশারী ডাইসন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের শহরতলি কিডলিংটনে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক ও অনুবাদ সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসরে কেতকী কুশারী ডাইসনের স্বতন্ত্র বিচরণ ছিল। বিশ্বসাহিত্যে বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্রসাহিত্যের অনুবাদের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। এছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকর্ম ও জীবন নিয়ে তাঁর গবেষণা সাহিত্যজগতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রবাসী হয়েও তিনি আজীবন বাংলা ভাষা ও বিশ্বসাহিত্যের মধ্যকার সেতু হিসেবে কাজ করে গেছেন।
১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন কেতকী কুশারী। পড়াশোনায় তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। ১৯৫৮ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রেকর্ড নম্বর নিয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে গমন করেন।
অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকালে ১৯৬৩ সালে তিনি প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৭৫ সালে পিএইচডি অর্জন করেন। সেখানে অবস্থানকালেই ইয়র্কশায়ারের অধিবাসী ও পদার্থবিদ্যার গবেষক রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর পদবি ‘ডাইসন’ যুক্ত করেন। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগসূত্র সবসময় বজায় ছিল।
১৯৭৭ সালে কেতকী কুশারীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বল্কল’ প্রকাশিত হয়। সাহিত্য জীবনে তিনি মোট ছয়টি কবিতার বই প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নারী, নগরী’ এবং ইংল্যান্ডে অভিবাসীদের জীবন নিয়ে লেখা আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’। তাঁর ‘জল ফুঁড়ে আগুন’ গ্রন্থটিও ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ‘রাতের রোদ’ ও ‘সুবর্ণরেখা’ নামের দুটি নাটক রচনা করেন।
গবেষণার ক্ষেত্রে কেতকী কুশারী ডাইসনের রচিত ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ বইটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবির গভীর বিশ্লেষণ ও রবীন্দ্রসাহিত্যের নিখুঁত ইংরেজি অনুবাদে তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই সমান দক্ষতায় কবিতা লিখেছেন কেতকী কুশারী। বাংলায় তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সবীজ পৃথিবী’, ‘জলের করিডর ধরে’ এবং ‘কথা বলতে দাও’। অন্যদিকে ইংরেজিতে তিনি প্রকাশ করেছেন ‘হিবিস্কাস ইন দ্য নর্থ’ ও ‘স্যাপ উড’-এর মতো কাব্যগ্রন্থ।
প্রবন্ধ সাহিত্যেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। প্রাবন্ধিক সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি প্রকাশ করেন ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’। এ ছাড়া তাঁর রচিত ‘শিকড়বাকড়’ ও ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ নামের দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত হয়। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য ও অনুবাদ গবেষণার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতির সৃষ্টি হলো।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।