
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে অবশেষে একটি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জানালা খুলতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ৬০ দিনের একটি প্রস্তাবিত অস্ত্রবিরতির শর্তাবলী মেনে নেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগটি একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে চূড়ান্ত স্থায়ী সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতির আওতায়:
ট্রাম্প জানান, “এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি নয়, বরং একটি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা। আমরা সকল পক্ষকে টেবিলে নিয়ে এসে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে চাই।”
গত এক বছরের সংঘাতে গাজা অঞ্চলে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ধ্বংস হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসন। যুদ্ধের ফলে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছে, যার মধ্যে শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়, তবে বহু পরিবার প্রথমবারের মতো কিছুটা শান্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি পাবে। মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে পারবে, এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের জীবনে সামান্য স্বস্তির বাতাস বইতে পারে।

গাজায় ধ্বংসস্তূপে মিলছে লাশ, বাড়ছে নিহতের সংখ্যা
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির (OIC) পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা আশাবাদী যে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠবে।”
২০২4 সালের মার্কিন নির্বাচন শেষে রাজনীতিতে সরব ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে আবারও দৃশ্যমান করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে তার এই শান্তি প্রস্তাবকে অনেকে তার সম্ভাব্য দ্বিতীয় মেয়াদে কূটনৈতিক প্রস্তুতির অংশ বলেও মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের শান্তিপ্রয়াসে গতি না থাকায় ট্রাম্পের বিকল্প পরিকল্পনাটি আলোচনায় এসেছে। যদিও এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গাজা অঞ্চলের যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যে এই ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব একটি ক্ষণিকের শান্তির সুযোগ এনে দিয়েছে। যদিও বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও সম্মিলিত সহযোগিতার উপর। তবে নিঃসন্দেহে, এই আলোচনার টেবিলের আহ্বানই বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
