দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের সংকট নিরসনে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিস্তারিত পরিকল্পনা ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৮ সাল শুরুর আগেই তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে মোট পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সভায় সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে দুই বছর, পাঁচ বছর এবং ১০ বছর মেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। মাহদী আমিন জানান, বর্তমানে দেশে দুটি এফএসআরইউ থাকার ফলে এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে একটি দীর্ঘদিন নষ্ট ছিল। বর্তমান সরকার শুধু সেটি মেরামতই করছে না, বরং এফএসআরইউ সংখ্যা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং পরবর্তীতে আরও দুটি বাড়িয়ে মোট পাঁচটি এফএসআরইউ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ২০২৮ সাল শুরুর আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ চালু করে গ্যাসের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাস কূপ খননের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মুখপাত্র জানান, এই ১৫০টি কূপের কাজ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৩০০টি কূপ খননের বিশাল রূপরেখা সামনে রাখা হয়েছে। শুধু এফএসআরইউ স্থাপনই নয়, ল্যান্ডবেসড বা ভূমিনির্ভর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং নতুন গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনেও সরকারের পক্ষ থেকে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লা থেকে একটি সমন্বিত উৎপাদনমুখী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় স্বনির্ভরতা অর্জিত হয়। এর পাশাপাশি বিশেষভাবে সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার এনার্জিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় করা এবং নিজস্ব শক্তিসম্পদে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই মতবিনিময় সভায় ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও এপেক্স বডির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করেন। ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্মরণ করে মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে সরকারি খাত থেকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে এবং বেসরকারি খাত তা বাস্তবায়ন করবে। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।
জ্বালানি খাতে অনেক পুঞ্জীভূত সমস্যা রয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এগুলো হয়তো একদিনে, এক মাসে বা এক বছরে পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তবে সরকারের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, সরকার বিশ্বাস করে যে প্রতিটি সমস্যাই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এ ধরণের মতবিনিময় সভা আগামী দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।