গ্যাস সংকটে ১৮ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, দ্রুত সচলের দাবিতে শ্রমিকদের মানববন্ধন

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ২১ ঘন্টা আগে
গ্যাস সংকটে ১৮ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, দ্রুত সচলের দাবিতে শ্রমিকদের মানববন্ধন

গ্যাস সংকটে প্রায় ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত সচলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারীরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (এনএফসিসিএল) শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গুণগত মান ভালো হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদিত ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে। কারখানাটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হলে দেশের সার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারও লাভবান হবে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন-বাণিজ্যের স্বার্থে বছরের বেশির ভাগ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছে। এতে ধীরে ধীরে কারখানাটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় এর যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ সার কারখানাকে গ্যাস সাশ্রয়ী ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করা অথবা প্রয়োজন হলে নতুন সার কারখানা স্থাপনের দাবি জানান শ্রমিক-কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ১৮ মাস ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।