
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়—এমন কোনো কর্মসূচি পালন করা হবে না।
সোমবার (১৮ মে) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভা শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এর আগে সকাল ১০টায় নয়াপল্টনে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জানাজা শেষে মরহুমের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যু দল ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এর আগে রোববার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির যৌথ সভা শুরু হয়। সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বাংলাদেশকে যিনি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে বিএনপি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।”
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ এখনো মানুষের মনে রয়েছে। বিশেষ করে খাল খননের ঐতিহাসিক উদ্যোগ তারই নেওয়া ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে ভারতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের নদীপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের উপনদী ও শাখা নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য জিয়াউর রহমান আজীবন সংগ্রাম করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান একটি হতাশাগ্রস্ত জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন এবং মৃত গণতন্ত্রকে পুনর্জীবিত করেছিলেন।”
বর্তমান নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যেমন গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন, তেমনি তারেক রহমানও ধারাবাহিকভাবে সফল কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি তার বাবার আদর্শ অনুসরণ করেই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন।”
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—৩০ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া ৩১ মে রমনা ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে বলেও জানান রুহুল কবির রিজভী।
