টাইটানিক দুর্ঘটনার ইতিহাস বহন করছে কানাডার হ্যালিফ্যাক্স ও এর মেরিটাইম মিউজিয়াম

১৯১২ সালে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর প্রাণ হারানো প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর শেষ ঠিকানা হয় কানাডার হ্যালিফ্যাক্স শহরের তিনটি সমাধিক্ষেত্রে।
টাইটানিক দুর্ঘটনার ইতিহাস বহন করছে কানাডার হ্যালিফ্যাক্স ও এর মেরিটাইম মিউজিয়াম
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

ফিচার ডেস্ক: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ন

১৯১২ সালে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিকের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হ্যালিফ্যাক্সের সঙ্গে। অতি সম্প্রতি হ্যালিফ্যাক্স ঘুরে এসে ভ্রমণবিষয়ক অভিজ্ঞতায় এই শান্ত ও সবুজ শহরের সঙ্গে টাইটানিকের ঐতিহাসিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেছেন এলিজা বিনতে এলাহী। শহরটি উদ্যান, ম্যাপেলগাছ ও নানা জলাধারে ঘেরা হলেও এর ইতিহাসের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে টাইটানিক ট্র্যাজেডি।

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ২ হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে প্রথমবারের মতো রওনা দিয়েছিল টাইটানিক। চার দিন পর, ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক আগে উত্তর আটলান্টিকে একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিন ঘণ্টারও কম সময়ে জাহাজটি ডুবে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারান। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করে কার্পাথিয়া জাহাজ নিউইয়র্কে নিয়ে গেলেও মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে হ্যালিফ্যাক্স।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থান এবং সুবিধাজনক রেল ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধার করা মরদেহগুলো হ্যালিফ্যাক্সে নিয়ে আসা হয়। জাহাজটির মালিকানাধীন হোয়াইট স্টার লাইন মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য চারটি কানাডীয় জাহাজ নিয়োগ করে। এর মধ্যে হ্যালিফ্যাক্স থেকে রওনা দেওয়া সিএস ম্যাকে-বেনেট ছিল প্রথম উদ্ধারকারী জাহাজ। চারটি জাহাজ মিলে সমুদ্র থেকে মোট ৩২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের অনেকের অন্ত্যেষ্টি সমুদ্রেই সম্পন্ন করা হয়, আর বাকিদের নিয়ে আসা হয় হ্যালিফ্যাক্সে।

মৃতদের সঙ্গে থাকা পোশাক, গয়না, চিঠি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন যাত্রীকে হ্যালিফ্যাক্সের ফেয়ারভিউ লন, মাউন্ট অলিভেট এবং ব্যারন হির্শ নামক তিনটি সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়। তবে কেবল এই সমাধিস্থলগুলোই নয়, শহরের মেরিটাইম মিউজিয়াম অব আটলান্টিকেও রয়েছে টাইটানিক স্মৃতির এক বড় অংশ।

মেরিটাইম মিউজিয়ামে ‘টাইটানিক: দ্য আনসিঙ্কেবল শিপ অ্যান্ড হ্যালিফ্যাক্স’ শিরোনামে একটি স্থায়ী প্রদর্শনী রয়েছে। সেখানে টাইটানিকের নির্মাণ, ডুবে যাওয়া এবং পরবর্তী উদ্ধারকাজে হ্যালিফ্যাক্সের ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রদর্শন করা হচ্ছে ৫০টির বেশি বস্তু, ঐতিহাসিক ছবি ও বিভিন্ন নথি। গ্যালারিতে প্রবেশ করলে বই বা সিনেমার পর্দায় দেখা সেই ঐতিহাসিক ঘটনার অনেকটাই কাছাকাছি যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।

প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো টাইটানিকের একটি আসল ডেক চেয়ার, যা ১৯১২ সালে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এর পাশেই দর্শনার্থীদের অনুভূতি অনুভবের জন্য রাখা হয়েছে একটি পুনর্নির্মিত ডেক চেয়ার। এ ছাড়া কাচের বাক্সে রাখা রয়েছে এক জোড়া ছোট চামড়ার জুতা, যা জড়িয়ে আছে টাইটানিকের ‘অজানা শিশু’র করুণ গল্পের সঙ্গে। ম্যাকে-বেনেটের নাবিকেরা যে অজ্ঞাত শিশুর দেহ উদ্ধার করে ফেয়ারভিউ লনে সমাহিত করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে ডিএনএ গবেষণায় তাঁকে ১৯ মাস বয়সী সিডনি লেসলি গুডউইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। কাচের বাক্সের জুতোজোড়া সেই শিশুটির বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জাদুঘরের দেয়ালে সাজানো রয়েছে সমুদ্র থেকে ভেসে আসা খোদাই করা ও সোনালি প্রলেপযুক্ত কাঠের নানা টুকরো। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয় জেলে ও নাবিকেরা এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন এবং বহু বছর পরিবারে রেখে দেওয়ার পর পরে জাদুঘরে দান করেন। পাশাপাশি এই প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে টাইটানিকে প্রথম শ্রেণির বিলাসবহুল যাত্রী থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণির অভিবাসী ও বয়লার-কক্ষের নাবিকদের জীবনযাত্রার আলোকচিত্র।

চলচ্চিত্র ইতিহাসের সঙ্গেও এই সংগ্রহের একটি বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় নির্দেশক ক্যামেরন নিজে হ্যালিফ্যাক্সের এই জাদুঘরের নিদর্শনগুলো দেখেন। চলচ্চিত্রটির ঐতিহাসিক গবেষণা ও তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও এই জাদুঘরের সংগ্রহ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

অথেন্টিক সোর্স: প্রথম আলো
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ