বাংলাদেশ ডেস্ক: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
ফরিদপুরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শীতকালীন মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়েছে। শীতের বাজারগুলোতে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে মৌসুমের শুরুতেই নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ায় তারা আশানুরূপ লাভের হিসাব মিলাতে পারছেন না।
স্থানীয় চাষিদের মতে, পেঁয়াজ চাষের শুরুতেই তাদের মূলত তিনটি বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট সার সংকট, অপর্যাপ্ত বা ভেজাল বীজের প্রভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে উপযুক্ত হিমাগার বা সংরক্ষণ সুবিধার তীব্র অভাব। এই তিন সংকটের কারণে আবাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, বাজার থেকে নির্ধারিত দামে সময়মতো প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে, যা সাধারণ চাষিদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে মানসম্মত বীজের অভাব এবং উচ্চ মূল্যের কারণেও তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকাই ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় ফসল তোলার পরপরই দ্রুত তা বাজারে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন কৃষকরা। ফলে সঠিক সময়ে উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হন তারা।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অন্যতম শীর্ষ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এই অঞ্চলে যদি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা যায়, তবে চাষিরা দীর্ঘমেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। এতে যেমন কৃষকরা উপকৃত হবেন, তেমনই বাজারেও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকবে।
বিদ্যমান সব বাধা ও সংকট সত্ত্বেও কৃষকরা মাঠে নিরলস পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকারের কাছে তারা সার ও বীজের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে মেহনতি চাষিরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।