আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ভুক্তভোগীরা যেন বিচারালয়ে নিজেদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অভিযুক্ত বলে বোধ না করেন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সম্প্রতি বিখ্যাত অভিনেতা ও কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান স্যার মার্ক রৌলির মন্তব্যের পর এ বিষয়ে আলোচনা নতুন রূপ নিয়েছে।
লন্ডনে চার সপ্তাহের বিচার প্রক্রিয়া শেষে রাসেল ব্র্যান্ডকে একটি ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে লন্ডন পুলিশ প্রধান স্যার মার্ক রৌলি বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই মামলার বিচারে যে ধরনের যুক্তি ও প্রতিবেদন সামনে এসেছে, তা ‘ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার’ (ভিকটিম ব্লেমিং) খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
টাইমস রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতে ভুক্তভোগীদের আরও উন্নত সহায়তা দিতে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা পদ্ধতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা দরকার। তবে বিবিসি বুঝতে পেরেছে যে, আপাতত ধর্ষণ বিচারসংক্রান্ত আইনে কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।
বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে রৌলিকে জানানো হয়, ব্র্যান্ডের আইনজীবী জুরিদের বলেছিলেন বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া কোনো অভিযোগকারীই ‘বাঁধা দেননি, চিৎকার করেননি কিংবা পালানোর চেষ্টাও করেননি’। এর জবাবে রৌলি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধে বহু কাজ করা হয়েছে। প্রতিটা ধর্ষণ বিচারেই যেন বিচারকরা ধর্ষণসংক্রান্ত ভুল ধারণা নিয়ে জুরিকে সঠিক নির্দেশনা দেন, সে বিষয়ে ভিকটিমস কমিশনারের আইনি বাধ্যবাধকতা চালুর দাবিকে তিনি সমর্থন করেন।
শনিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, তিনি পুলিশ প্রধানের মন্তব্যগুলো গুরুত্বসহকারে দেখছেন। নারীদের ওপর সহিংসতা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আরও নারীদের অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা এবং অপরাধীদের সাজা নিশ্চিতের হার বাড়ানো প্রয়োজন। আইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এখনই কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করছেন না এবং পুরো বিষয়টি বিশদভাবে অনুধাবন করবেন।
৫১ বছর বয়সী অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডকে জামিন না দিয়ে সোমবার সাজার জন্য রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি দীর্ঘ কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন। বিচার চলাকালে আরও দুটি ধর্ষণ ও একটি যৌন হেনস্থার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অন্য দুই নারীর নতুন ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
ভিকটিমস কমিশনার ক্লেয়ার ওয়াক্সম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন যে বিচারব্যবস্থা কেবল প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, কোনো সামাজিক ভুল ধারণা বা মিথের ওপর নির্ভর করে নয়। নারী অধিকার সংস্থা ‘সেন্টার ফর উইমেনস জাস্টিস’-এর পরিচালক হ্যারিয়েট উইস্ট্রিচও সম্মত হয়েছেন যে জুরিদের মানসিক আঘাতের পর আচরণগত বিষয়গুলো বুঝতে হবে।
তবে ব্যালাস্টার ও সাবেক রক্ষণশীল এমপি অ্যানা সৌব্রি পুলিশ প্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, এমন মন্তব্যে জনসাধারণ বিভ্রান্ত হতে পারে। তিনি জানান, ক্রাউন কোর্টের বিচারকরা নিয়মিতই এসব বিষয়ে জুরিদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে থাকেন এবং আমাদের বিচার ব্যবস্থার জুরিদের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।