আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভের জেরে নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে প্রায় চার দশকের মধ্যে বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ২০০৮ সালের পর সিনেটে সর্বোচ্চ আসন পেতে যাচ্ছে দলটি। তবে ক্ষমতায় আসার পর পরই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি ডেমোক্রেটরা দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ভোটাররা কম খরচে নিত্যপণ্য, কম সুদে বন্ধকী ঋণ এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার আশা করলেও আগামী কয়েক বছরে তা পূরণ করা ডেমোক্রেটদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। সিনেটে হবু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার এবং সম্ভাব্য স্পিকার হাকিম জেফ্রিজ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই বর্তমান আইনপ্রণেতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ছিল ভোটারদের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিক হয়। শুমার যুদ্ধ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কংগ্রেসের বাজেট কমানোর ক্ষমতার মধ্যে জটিলতা রয়ে গেছে। সিনেটে ফিলিবাস্টার ঠেকানোর মতো প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট ডেমোক্রেটদের নেই।
এর বাইরে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অভিবাসনবিরোধী নীতিও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন আইনি অজুহাতে শুল্ক আরোপ এবং অভিবাসন কড়াকড়ির কারণে নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বন্ধ করা ডেমোক্রেটদের পক্ষে কঠিন, কারণ এ সংক্রান্ত ফান্ডিং আগেই অনুমোদিত।
স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি বজায় রাখা বা খাদ্য সহায়তার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ছাঁটাই ঠেকানোর প্রচেষ্টাও বাজেট ঘাটতির কারণে থমকে যেতে পারে। বর্তমানে দেশটির বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে নতুন করে অর্থ সংস্থান করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাইপাস করার মতো পর্যাপ্ত ভোটও ডেমোক্রেটদের নেই। তা ছাড়া বিজয়ী রিপাবলিকানদের অধিকাংশই ট্রাম্প সমর্থক ট্রাডিশনাল ‘মেগা’ ডিস্ট্রিক্ট থেকে এসেছেন, ফলে তারা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
বর্তমানে আমেরিকান অর্থনীতি অনেকটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে এআই সংস্থাগুলো প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহ করেছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট আশঙ্কা করছে, এআই কেন্দ্রিক বিশাল বিনিয়োগের সুফল পেতে দেরি হতে পারে। যদি এই খাত ধসে পড়ে, তবে ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার চেয়েও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্স উল্লেখ করেছেন যে, বেকারত্ব বা মূল্যস্ফীতি যতটা না খারাপ, তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে অর্থনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার অভাব। ফলে ডেমোক্রেটরা ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন পেলেও আগামী দুই বছরে অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হলে রাজনৈতিক অসন্তোষের তির তাদের দিকেও ঘুরতে পারে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।