আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ‘হাবিবি পিএসি’ নামের একটি নতুন রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) গঠন করেছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি হলো এমন একটি সংগঠন, যা নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে থাকে। এ ধরনের কমিটি মূলত কোনো রাজনীতিকের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচার কমিটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবে কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে (এফইসি) জমা দেওয়া নথির বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আবদুল আল-সাইয়েদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ‘হাবিবি পিএসি’ নিবন্ধিত হয়। আরবি শব্দ ‘হাবিবি’র অর্থ হলো প্রিয় বা ভালোবাসার মানুষ। নিজের নির্বাচনী প্রচারের সময় আল-সাইয়েদ প্রায়ই শব্দটি ব্যবহার করতেন। এমনকি ডেট্রয়েটে বিজয়ী ভাষণেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উদ্দেশে রসিকতা করে বলেছিলেন, আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী ভ্যান্সকেই তাঁকে শপথ পড়াতে হবে।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করার তালিকায় কেবল আল-সাইয়েদই একা নন। এফইসির নথি অনুযায়ী, সম্প্রতি নির্বাচিত আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকও একই ধরণের কমিটি নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অ্যারিজোনার নবনির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য আমিশ শাহ, আইওয়ার নবনির্বাচিত সিনেটর জশ তুরেক এবং নর্থ ক্যারোলাইনার নবনির্বাচিত সিনেটর রয় কুপার রয়েছেন।
রাজনৈতিক অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী গবেষণা সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিকেরা রাজনৈতিক অঙ্গনে সহকর্মীদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব ও অবস্থান জোরদার করতে এই পিএসি ব্যবহার করেন। অন্য আইনপ্রণেতা, রাজনৈতিক দল কিংবা বিভিন্ন কমিটিকে অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা দলীয় নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ ধরনের কমিটিগুলো প্রার্থীদের মোট ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল, যার বড় অংশ রিপাবলিকান প্রার্থীরা পেলেও এককভাবে সর্বাধিক অর্থ দিয়েছিল একটি ডেমোক্র্যাট পিএসি।
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আবদুল আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেটর নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচার চলাকালে তৎকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স ও টেড ক্রুজের মতো শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা তাঁর দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দেওয়া হয় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
নির্বাচনের ঠিক আগে আল-সাইয়েদ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশি সরকারগুলোর পেছনে অপচয় না করে নিজ দেশের মানুষের জীবন ও কল্যাণে খরচ করা উচিত। তাঁর মতে, যেসব বিদেশি সরকার জাতিগত নিধন বা বর্ণবাদী ব্যবস্থা পরিচালনা করে, তাদের সব ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কেবল ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করলেই চলবেনা, বরং ট্রাম্পের মতো নেতার জন্ম দেয় যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সেটিতেও আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।