নীলফামারীতে নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলে পলাতক

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
নীলফামারীতে নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলে পলাতক

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে, তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের বড় ছেলে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্র থেকে জানা যায়, নিহত মারুফা বেগমের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকায় চাকরি করেন এবং বাড়িতে মারুফা বেগম তার বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে থাকতেন। গত সোমবার থেকে মারুফা বেগম হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। মায়ের নিখোঁজের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছোট ছেলে লাভিন মিয়া বাড়িতে ছুটে আসেন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও মায়ের কোনো সন্ধান পাননি। ঘটনার মোড় ঘোরে যখন লাভিন মিয়ার স্ত্রী নিজের ঘরের বিছানা গোছাতে গিয়ে মেঝেতে রক্তের দাগ এবং একটি ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ লাভিন মিয়াকে জানানো হলে তিনি দ্রুত থানায় গিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্নসহ মেঝের অস্বাভাবিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের সহায়তায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে নিখোঁজ মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া তার বড় ভাই জুয়েলের বিরুদ্ধে মাকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মেঝেতে পুঁতে রাখার সরাসরি অভিযোগ এনেছেন। লাভিন জানান, ঢাকা থেকে আসার পর তিনি জানতে পারেন যে ঘটনার দিন তার মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল এবং অভিমানে তার ভাবি বাবার বাড়িতে চলে যান। এর পর থেকেই তার মা নিখোঁজ হন এবং একই সময় থেকে বড় ভাই জুয়েলও আত্মগোপনে চলে যান।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ছোট ছেলের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক আলামত পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। বর্তমানে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নীলফামারীতে নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
  • বড় ছেলে পলাতক