বিনোদন ডেস্ক: প্রখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেত্রী প্রয়াত ডায়ানা রিগের জীবন, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা তথ্য নিয়ে স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন তার কন্যা অভিনেত্রী র্যাচেল স্টার্লিং। ‘অল অ্যাবাউট মাই মাদার’ শিরোনামের এই বইটিকে ডায়ানা রিগের প্রতি তার কন্যার এক আন্তরিক ও হাস্যরসাত্মক শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি যৌথভাবে আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথার সমন্বয়ে রচিত। জন মারে থেকে প্রকাশিত এই বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ পাউন্ড।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ডায়ানা রিগের মৃত্যুর ছয় বছর পর বইটি প্রকাশিত হলো। ষাটের দশকের জনপ্রিয় স্পাই সিরিজ ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’-এ এমা পিল চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন রিগ। পরবর্তীতে তিনি ‘মেডিয়া’, ‘ফ্রেড্রা’, ‘মাদার কারেজ’ এবং বিখ্যাত টিভি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এ ওলেনা টাইরেল চরিত্রের মতো জটিল ও শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। নিজের জীবন নিয়ে কোনো আত্মজীবনী প্রকাশের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি, তাই তার মৃত্যুর পর কন্যা স্টার্লিং এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেন।
বইটিতে ডায়ানা রিগের জীবনের নানা আলোচিত ঘটনা স্থান পেয়েছে। ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজে অভিনয়ের সময় তিনি জানতে পারেন যে তার সহ-অভিনেতা প্যাট্রিক ম্যাকনি এবং এমনকি ক্যামেরাম্যানও তার চেয়ে বেশি বেতন পাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে তিনি সমপরিমাণ পারিশ্রমিকের দাবি জানান এবং তা আদায় করেন। তবে সে সময় গণমাধ্যম তাকে ‘অর্থলোভী’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছিল। নারী অধিকার ও সমান পারিশ্রমিক নিয়ে তার মতামত ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট।
স্মৃতিকথায় রিগের জীবনের কিছু নাটকীয় ও অদ্ভুত ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা বেনি হিলের বাড়িতে আয়োজিত পার্টিতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কৌশলে পালিয়ে আসার ঘটনা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ‘অন হার মেজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় সহ-অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবির সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব এবং প্রকাশ্য চিঠিপত্রের লড়াইয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
স্টার্লিং তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানান, ডায়ানা রিগ একজন অত্যন্ত যত্নশীল ও নিবিড় মা ছিলেন। বোর্ডিং স্কুলে মেয়েকে পৌঁছে দেওয়ার সময় তিনি কাঁদতেন এবং ছুটির দিনগুলোতে দুজন একসঙ্গেই সময় কাটাতেন। পরবর্তীতে স্টার্লিং যখন অভিনয়ে আসেন, তখন রিগ তার অভিনয় জীবনের কড়া সমালোচক ছিলেন। যৌথভাবে অভিনয়ের সময় রিগ তাকে সহশিল্পীর চেয়ে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন বলে বইটিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর তার নানি বেরিলের জমানো সংবাদপত্রের কাটিং, রেকর্ড করা সাক্ষাৎকার, নিজস্ব নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে র্যাচেল স্টার্লিং এই বইটি রচনা করেছেন। মায়ের স্মৃতি ও তার প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে স্টার্লিং লিখেছেন যে, প্রতিটি নতুন নাটকের উদ্বোধনী রাতে তিনি মায়ের চিতার ভস্মের একটি কণা গ্রহণ করেন, যা তাকে সাহস ও শক্তি জোগায়।
সূত্র: The Guardian – Culture

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।