বাংলাদেশ ডেস্ক: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা ও শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইংরেজি ভাষার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য লাওশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ–সংক্রান্ত নির্দেশনাটি গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহকারী এবং বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার পর দায়দায়িত্ব এড়ানো নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই কেন সুনির্দিষ্টভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো, নির্দেশনায় তার স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে লাওস যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। এই হিসাবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো দেশগুলোর তালিকায় এ বছরে লাওসের অবস্থান ১৩তম। এর আগে গত বছর ৩ হাজার ৮৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী ছাড়পত্র নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, তখন শীর্ষ তালিকায় লাওসের অবস্থান ছিল ১৬তম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাওসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিয়ে অপরাধে যুক্ত করাসহ নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে চুক্তিতে কাজের সময়সূচি নির্ধারিত থাকা লাওস সরকার অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে বলে দ্য লাওশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে প্রবেশ বা কাজে নিয়োগের অনুমতি দিতে পারবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসার (এলএ–বি২) অনুমোদনও ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা, বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনুমোদন ছাড়া কোনো শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ দিলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ (১১০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে। অন্য শ্রমিক ইউনিটে দেওয়ার জন্য শ্রমিক আনলেও একই পরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া অন্য শ্রমিক ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কোনো শ্রমিককে কাজে ব্যবহার বা গ্রহণ করলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ (৮৯ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে।
অন্যদিকে, অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে গিয়ে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ (৪৪ মার্কিন ডলার) জরিমানা গুনতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই দেশে ফেরত পাঠানোসহ যাতায়াতের সব খরচ নিয়োগকর্তা বা নিয়ম ভঙ্গকারী পক্ষকেই বহন করতে হবে। কেউ একই ধরনের অপরাধ আবার করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে এবং অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
লাওসে বর্তমানে ঠিক কতজন বাংলাদেশি কাজ করছেন এবং এই স্থগিতাদেশের কারণে দেশটির কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে লাওস সরকারের নির্দেশনায় কিছু জানানো হয়নি। তবে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকেরা প্রধানত সে দেশের নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে নিয়োজিত রয়েছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।