খেলাধুলা ডেস্ক: স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয় জীবনের সব অনুভূতি ও গতিপথ বদলে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমো। গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনা হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ওলমো জানান, বিশ্বজয়ের মুহূর্তটি পুরো জীবনকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেয়।
বার্সেলোনার জোয়ান গান্পার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে বসে কথা বলার সময় ওলমো জানান, ফাইনাল বাঁশি বাজার পর ফেরান তোরেসের মায়ের সঙ্গে আলিঙ্গন করে দুজনেই যখন কেঁদেছিলেন, তখনই তিনি প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গভীরতা অনুভব করেন। তিনি ২০১০ সালের সেই বিখ্যাত স্প্যানিশ প্রজন্মের কথা স্মরণ করেন, যখন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি, সার্জিও বুসকেটস, জাবি আলোনসো ও ডেভিড ভিয়ার মতো কিংবদন্তিরা ট্রফি জিতেছিলেন। ওলমোর মতে, সেই স্বপ্নের কাতারে এখন তারাও সামিল হয়েছেন।
বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র ২৩ দিন পর ক্লাব ফুটবলে ফিরে এসেছেন ওলমো। অনুশীলনের পর বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক তাকে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে, এখন বার্সেলোনার হয়েও একই রকম সাফল্য তুলে আনতে হবে। স্পেনের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপজয়ী দলের আটজনই ছিলেন বার্সেলোনার খেলোয়াড়। যদিও ফেরান তোরেস পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন, তবে ম্যানচেস্টার সিটিকে ছেড়ে রদ্রি যোগ দিয়েছেন বার্সেলোনায়। ওলমো বিশ্বাস করেন, জাতীয় দলের এই সাফল্য ক্লাবের সাফল্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বার্সেলোনা গত মৌসুমে ঘরোয়া লিগ এবং সুপার কাপ জিতলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ট্রফির খরা কাটাতে পারেনি। প্রায় ১১ বছর ধরে ইউরোপের সেরা ট্রফিটি জেতা হয়নি ক্যাটালানদের। ২০১৫ সালে বার্সেলোনা যখন শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে, তখন ওলমোর বয়স ছিল ১৭ বছর। ডাইনামো জাগরেব ও আরবি লাইপজিগ ঘুরে ২০২৪ সালে মূল ক্লাবে ফেরেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ইউরোপে গত দুই মৌসুমে ইন্টার মিলান ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে যথাক্রমে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বাদ পড়েছিল তারা।
বুধবারে ক্যাম্প ন্যু-তে ফেয়েনোর্ডের বিরুদ্ধে নতুন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করছে বার্সেলোনা। ওলমো মনে করেন, অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ দলটি এখন অনেক বেশি পরিপক্ক। এমনকি গত মাসে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে বার্সেলোনার একাদশের গড় বয়স ছিল ২৩.১৮ বছর, যা ক্যাম্প ন্যু-এর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী শুরুর একাদশ। লা মাসিয়া অ্যাকাডেমি থেকে পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, মার্ক বেরনাল ও জাভি এস্পার্তের মতো প্রতিভারা উঠে এসেছেন, যারা ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
স্পেন জাতীয় দল ও বার্সেলোনা দলের খেলার কৌশলেও কিছু পার্থক্য তুলে ধরেছেন ওলমো। জাতীয় দলে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে হাই-লাইন প্রেসারের পাশাপাশি প্রয়োজনমতো লো-ব্লক ডিফেন্সে জোর দেন। অন্যদিকে বার্সেলোনায় ফ্লিকের অধীনে সবসময় আক্রমণাত্মক এবং দ্রুত ট্রানজিশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রদ্রিকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে ওলমো বলেন, বুসকেটসের জায়গায় তিনি দারুণ ভারসাম্য এনে দিয়েছেন এবং এটি দলকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেবে।
রবার্ট লেভানডফস্কি ও তোরেস দল ছাড়লেও ক্লাবে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, অ্যান্থনি গর্ডন, কারিম আদেয়েমি ও হামজার মতো খেলোয়াড়রা আসায় আক্রমণে বৈচিত্র্য এসেছে বলে জানান তিনি। ওলমো নিজেও প্রয়োজনে ফলস নাইন বা ৯ নম্বর পজিশনে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আগামী ৫ জুন মাদ্রিদের মেত্রোপোলিতানো স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছে বার্সেলোনা। বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার বার্সেলোনাকে ইউরোপের চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ওলমো।
সূত্র: The Guardian – Sport

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।