— বিজ্ঞাপন —

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বই পড়া প্রতিযোগিতা: জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়তে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজেই ছুটছেন উপজেলা থেকে বিদ্যালয়ে, শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বই পড়ার প্রেরণা; ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে ১০৫ জন
abu sayedjpg
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

লিটন হোসাইন জিহাদ:
একটি বই বদলে দিতে
পারে একটি জীবন, আর বইপড়ায় অভ্যস্ত
একটি প্রজন্ম বদলে দিতে পারে পুরো সমাজ—এমন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে
শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উৎসাহিত
করছেন তিনি। তাঁর এ উদ্যোগে যুক্ত
হয়েছে জেলার হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। বইকে
আনন্দ, জ্ঞান ও মনন বিকাশের
সঙ্গী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘বইপড়া কর্মসূচি–২০২৬’।

জেলা
প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলার
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে অংশ নিয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি
শিক্ষার্থী। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০
শিক্ষার্থী। কয়েক ধাপের মূল্যায়ন ও বাছাই শেষে
জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ১০৫ জন।

শিক্ষার্থীদের
বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সরাসরি অংশগ্রহণ এ কর্মসূচির অন্যতম
উল্লেখযোগ্য দিক। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বিদ্যালয়ে গিয়ে
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা, বই পড়ার গুরুত্ব
তুলে ধরা এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে তিনি এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের
আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন।

বর্তমান
সময়ে যখন ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের
বিনোদনের ভিড়ে শিশু–কিশোরদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে, তখন তাদের বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা বিশেষ
তাৎপর্য বহন করে। কারণ, বই পড়া কেবল
পরীক্ষায় ভালো ফল করার উপায়
নয়; এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি, বিচারবোধ ও মানবিক চেতনা
বিকাশের অন্যতম ভিত্তি।

শিক্ষার্থীদের
বইমুখী করতে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের এই উদ্যোগের পেছনে
রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞাননির্ভর ও দায়িত্বশীল নাগরিক
হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা। একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তৈরি করার চেয়েও তাঁর এ কর্মসূচির বড়
তাৎপর্য হলো—শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন একটি অভ্যাস তৈরি করা, যা তাদের সারা
জীবন পথ দেখাবে।

এ
বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন “আমি চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়, নিজেদের জানার পরিধি বাড়াতে, মানুষকে বুঝতে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বই,ছোট কাগজ, পত্রিকা পড়ুক। বই মানুষকে আলোকিত করে, চিন্তাশীল করে এবং মানবিক হতে শেখায়। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাদের হাতে বই তুলে দিয়ে যদি আমরা জ্ঞানমনস্ক, নৈতিক ও সৃজনশীল একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি, সেটিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে তাদের বই পড়তে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।”

শিক্ষার্থীদের
শ্রেণি ও শিক্ষাস্তর বিবেচনায়
‘বইপড়া কর্মসূচি–২০২৬’ পরিচালিত হচ্ছে তিনটি বিভাগে। ক বিভাগে ষষ্ঠ
থেকে অষ্টম শ্রেণি, খ বিভাগে নবম
ও দশম শ্রেণি এবং গ বিভাগে একাদশ
শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার
পাঠ্যসূচিতে রয়েছে বাংলা সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী, শিশু–কিশোর সাহিত্য ও নৈতিক শিক্ষাবিষয়ক
নির্বাচিত বই। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার
পাশাপাশি বই উপস্থাপন ও
বিশ্লেষণের বিষয়ও রাখা হয়েছে। ফলে মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বই পড়ে বোঝা,
নিজের ভাষায় প্রকাশ করা এবং অর্জিত জ্ঞান বিশ্লেষণের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২৭
অক্টোবর সোমবার জেলা প্রশাসক সংবাদ সম্মেলনে জানান
, বই পড়া প্রতিযোগিতা ৪ আগস্ট ২০২৬
কর্মসূচিটির
উদ্বোধন
করা হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক
পর্যায়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধাপের প্রতিযোগিতা ও বাছাই শেষে
আগামী ২৮ অক্টোবর জেলা
পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

চূড়ান্ত
পর্বে নির্বাচিত ১০৫ জন শিক্ষার্থী নিজেদের
জ্ঞান, অনুধাবন, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার
পরিচয় দেওয়ার সুযোগ পাবে। জেলা পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান
অর্জনকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বই, ক্রেস্ট ও অন্যান্য পুরস্কার
দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জেলা
পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হবে।

একটি
বই একজন শিক্ষার্থীর চিন্তার দুয়ার খুলে দিতে পারে; আর হাজারো শিক্ষার্থীর
হাতে বই তুলে দেওয়ার
উদ্যোগ আলোকিত করতে পারে একটি জেলার ভবিষ্যৎ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বইপড়া কর্মসূচি–২০২৬’ তাই কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়—এটি বইয়ের
আলোয় জ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও সৃজনশীল প্রজন্ম
গড়ে তোলার প্রত্যাশারও প্রতিচ্ছবি।

 

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗