
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে মানুষ যায় জীবন বাঁচানোর আশায়। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় উঠছে ভুল চিকিৎসা, অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের শিশুও।
স্বজনদের অভিযোগ, কোথাও অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু হয়েছে, কোথাও ইনজেকশন দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হয়েছে, আবার কোথাও চিকিৎসকের পরিবর্তে নার্স বা সহকারী দিয়ে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভাঙচুরও করেছেন।
অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নবীনগরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল, পাইকপাড়ার দি মেঘনা জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসংলগ্ন মডার্ণ এক্সরে অ্যান্ড প্যাথলজি ক্লিনিক, সরাইলের মনোয়ারা হাসপাতাল, হালদারপাড়ার নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ঘাটুরার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
তবে এসব ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতি বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবিও করেনি প্রশাসন।
গত ৫ এপ্রিল নবীনগরের লাউর ফতেহপুর এলাকার মিজান মিয়ার মেয়ে রাকিবা আক্তার প্রসবের জন্য নবীনগরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর করেন। পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই রাকিবার মৃত্যু হয়েছে।
এরপর ২৪ জুন হবিগঞ্জের মাধবপুরের গিয়াস উদ্দিনের ছয় মাস বয়সী ছেলে আনাসকে হাম/হামের উপসর্গ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাইকপাড়ার দি মেঘনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে।
নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট পশ্চিমপাড়ার মো. আশরাফুল মিয়ার স্ত্রী মাইশা আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ২৮ জুন তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মডার্ণ এক্সরে অ্যান্ড প্যাথলজি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. পি. বি. রায় সুপ্রিয় তাকে পরীক্ষা করেন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের পরামর্শে ‘ট্রাইজোন’ ইনজেকশন ও নেবুলাইজেশন দেওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তার সহকারী সুধাংশু ক্লিনিকের ভেতরেই মাইশাকে ইনজেকশন দেন। এরপরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানায়।
সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার রহিমা বেগমের (৩০) মৃত্যুর ঘটনাতেও চিকিৎসায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসের মৃত ভ্রূণ অপসারণের জন্য তাকে সরাইলের মনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরিবর্তে একজন নার্স দিয়ে ডি অ্যান্ড সি (D&C) করানো হয়। এরপর রহিমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গত ২৯ জুলাই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের হালদারপাড়া এলাকার নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও এক নারী রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। মৃত্যুর পর স্বজনরা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিহত ওই রোগীর নাম-ঠিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট সিজারের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন সদর উপজেলার গোকর্ণঘাট গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে জুলফা আক্তার। পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রঞ্জিত বিশ্বাসের অধীনে তার চিকিৎসা পরিচালিত হয়। অস্ত্রোপচারের সময় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জুলফার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় শিক্ষানবিশদের দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয় এবং এতে জরায়ু কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এতগুলো মৃত্যুর ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত আছি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে এবং বিষয়টি আইনের আওতায় এলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত চলমান—সিভিল সার্জনের এমন বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগগুলোর তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? তদন্ত প্রতিবেদন কবে প্রকাশ হবে? চিকিৎসায় গাফিলতি প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের লিখিত অভিযোগ না থাকলে স্বাস্থ্য প্রশাসন কি স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে না?
শুধু মৃত্যুর ঘটনাই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, অতিরিক্ত ফি আদায়, দালালের দৌরাত্ম্য, চিকিৎসকের পরিবর্তে সহকারী বা নার্স দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখানো, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে পরামর্শ দেওয়া এবং অকার্যকর ওষুধ প্রেসক্রাইব করার মতো অভিযোগও রয়েছে।পাশাপাশি অদক্ষ ও রেজিষ্ট্রেশনহীন নার্সদের মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করানো, অদক্ষ ও BMDC অননুমোদিত ডিউটি ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদানের অভিযোগ ও পাওয়া গেছে এবং ক্লিনিক সেবায় মৃত্যুর সবথেকে বড় কারণ হিসেবে এটাকেই দেখা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সামাজিক সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ স্টাফ, প্রশিক্ষণ বা ডিপ্লোমাবিহীন নার্স দিয়ে সেবা প্রদান, অনুমোদনহীনভাবে হাসপাতাল পরিচালনা, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, দালালের দৌরাত্ম্য, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী ভাগ-বাটোয়ারা এবং চিকিৎসকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপসহ নানা কারণে জেলার স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে চিকিৎসাসেবা অন্যতম। কিন্তু দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ভালো চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় অনেকেই ভারতসহ বিদেশমুখী হচ্ছেন, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”
শামীম আহমেদ আরও বলেন, গত কয়েক মাসে অসচেতনতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ছয়জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্তের অগ্রগতি, প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের মধ্যেই যেন কোনো ঘটনার পরিণতি সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান, অদক্ষ জনবল, অনিয়ম ও রোগী হয়রানির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিককে জরিমানা করার প্রসঙ্গে শামীম আহমেদ বলেন, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হচ্ছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও
অব্যবস্থাপনার অস্তিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—অভিযানের পরও কেন এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে না?
তিনি বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা বা জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়লে পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে কি না, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কি না এবং একই ধরনের অনিয়ম পুনরায় ঘটছে কি না—এসব বিষয়ও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আক্তার হুসাইনের কাছে এসব মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে আমরাও অবগত আছি।”
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে সিভিল সার্জন।”
তবে এতগুলো মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. আক্তার হুসাইন। তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ফেরানোর স্বার্থে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটিতে দেশের কোনো মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক কিংবা অভিজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, রোগীর মৃত্যুর পর কোনো কোনো ঘটনায় বিভিন্ন মহলের মধ্যস্থতায় আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চার দেয়ালের মধ্যেই মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়। ফলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে আসে না এবং প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয় না।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি সরাসরি তাদের কার্যালয়ে গিয়েও বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন থেকেই যায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবার পরিধিও। কিন্তু এর সঙ্গে যদি রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হয়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের আস্থার জায়গা না হয়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর কিছুদিন আলোচনা-সমালোচনা হলেও সময়ের সঙ্গে ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যায়। তদন্তের কথা বলা হলেও অনেক সময় তদন্তের ফলাফল সাধারণ মানুষের সামনে আসে না।
তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—ভুল চিকিৎসার অভিযোগে একের পর এক মৃত্যুর তদন্ত কোথায় গিয়ে থেমে যায়? অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা কতটুকু হয়?বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি কোথায়?
সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। চিকিৎসায় অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স, জনবল, চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আনা হোক।
কারণ হাসপাতাল ব্যবসার জায়গা হতে পারে—কিন্তু রোগীর জীবন কোনো ব্যবসার পণ্য হতে পারে না।
