নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: আসামি রবিউলের মৃত্যুদণ্ড

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে
নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: আসামি রবিউলের মৃত্যুদণ্ড

নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রবিউল শিকদার রবিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নড়াইলের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিবুর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল শিকদার রবি নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান শিকদারের ছেলে। নিহত শিশু জান্নাতুল মাওয়া একই গ্রামের মফিজুর শেখের মেয়ে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই বিকেলে রবিউল শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় মেয়েটির কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে তারা রবিউলের ঘরে গিয়ে মেঝেতে কাঁথায় পেঁচানো অবস্থায় জান্নাতুলকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই নিহত শিশুর বাবা মফিজুর শেখ বাদী হয়ে রবিউল শিকদার রবির নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

মামলার পরদিন ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন রবিউলকে আটক করেন। পরে তাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রবিউলের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন তিনি।

মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ২২ জুলাই এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ২৮ জুলাই হাতে পাওয়ার পর মামলার তদন্ত শেষ হয়। পরে ৪ আগস্ট সদর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ হাসানের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল আসামি রবিউল শিকদার রবিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। আদালতের এ রায়ে নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।