— বিজ্ঞাপন —

ম্যানচেস্টার ও আবুধাবির সম্পর্ক: ফুটবল, সম্পত্তি ও রাজনীতির মারপ্যাঁচ

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের পর ক্লাবটির আবুধাবিভিত্তিক মালিক এবং ম্যানচেস্টারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
ম্যানচেস্টার ও আবুধাবির সম্পর্ক: ফুটবল, সম্পত্তি ও রাজনীতির মারপ্যাঁচ
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। একটি স্বাধীন কমিশন জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাবটি স্পনসরশিপের রাজস্ব বাড়িয়ে দেখিয়ে গোপন তহবিল ঢেকে রাখার মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নিয়ম ভেঙেছিল। এরপর থেকেই সিটির শাস্তির মাত্রা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, যদিও ক্লাবটি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

এই চলমান সংকট চলাকালীন সিটির আবুধাবিভিত্তিক মালিক এবং ম্যানচেস্টারের রাজনৈতিক অভিজাতদের সম্পর্কের বিষয়টি শিরোনামে উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মালিকানাধীন আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ (এডিইউজি) ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে ম্যানচেস্টার সিটি কিনে নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতে ক্লাবে শত শত কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার শহরের পুনর্গঠনেও আবুধাবির বিনিয়োগকারীরা বড় ভূমিকা পালন করে।

২০১৪ সালে এডিইউজি লেবার পার্টি পরিচালিত ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের সাথে একটি যৌথ উদ্যোগে অংশ নেয়, যা ‘ম্যানচেস্টার লাইফ’ নামে পরিচিত। ১ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে ৬,০০০টিরও বেশি নতুন বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০টি বাড়ি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ইটিহাদ ক্যাম্পাসের উন্নয়ন এবং স্থানীয় কমিউনিটি সুবিধা তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিল আবুধাবি গ্রুপকে খুব সস্তায় সরকারি জমি বিক্রি করেছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সালে শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির একটি রিপোর্টে এই প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ম্যানচেস্টারের তৎকালীন সিটি কাউন্সিল নেতা স্যার রিচার্ড লিস সহ রাজনৈতিক নেতারা এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় সেখানে অন্য কোনো বিনিয়োগকারী ছিল না এবং আবুধাবির বিনিয়োগই ওই অঞ্চলে পুনর্গঠনের জোয়ার এনেছিল।

সম্প্রতি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের তৎকালীন মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্লাবের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে কথা বলার পর বিতর্ক আরও বাড়ে। সিটির মালিকরা ক্লাব বিক্রি করে দিলে তিনি উদ্বিগ্ন হবেন বলে জানান এবং আধুনিক ম্যানচেস্টার গঠনে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। এর ফলে সমালোচনা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে ক্লাবটি নিয়মের ঊর্ধ্বে নয়।

পরবর্তীতে জানা যায়, মেয়র থাকাকালে বার্নহ্যাম সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারকের সাথে একাধিক সান্ধ্যভোজে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া বার্নহ্যামের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে ম্যানচেস্টার সিটির মালিক নিয়ন্ত্রিত আবাসন সংস্থাগুলোকে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। যদিও কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি, তবুও একটি স্বাধীন কমিটি এই ঋণের বিষয়ে তদন্ত করবে।

সূত্র: BBC News – Top Stories
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗