আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যকে “পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র” বলে কটাক্ষ করে চরম কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাজ্যকে “ব্রিটেনের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সুদূর ডানপন্থীদের ইসলামোফোবিক বক্তব্যকে প্রতিফলিত করে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুক্তরাজ্যই প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র যা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েল সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের ছেলে সাংবাদিক র্যান্ডলফ চার্চিলের প্রশংসা করে বলেন, প্রায় আধা শতাব্দী আগে তিনি ইসরায়েলের ইতিবাচক কভারেজ দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের ব্রিটেনে, যাকে “ব্রিটেনের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র” বলা হয়, সেখানে তেমনটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরপর উপস্থাপক যখন প্রশ্ন করেন পুরো ইউরোপই কি এমন নয়, তখন নেতানিয়াহু আরও বাড়িয়ে বলেন যে যুক্তরাজ্যই হতে যাচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র। অথচ বাস্তবে ১৯৯০-এর দশক থেকেই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী একমাত্র ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।
যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য এলো। যুক্তরাজ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। বার্নহাম ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের শুরুতে লেবার পার্টির ভূমিকার জন্য ক্ষমা চান এবং বলেন যে লেবার পার্টির সেদিনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।
গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আরও পদক্ষেপ নেবেন। এর মধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা অ্যাভি দাবুশ। তিনি বলেন, যখন ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে অভূতপূর্ব একাকীত্বের মুখে পড়েছে, তখন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে উপহাস করা একটি ভয়াবহ কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় অন্যান্য দেশকে একত্র করতে নেতানিয়াহুর ব্যর্থতারই পরিচয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও অনুরূপ মন্তব্য করে বলেছিলেন যে যুক্তরাজ্য হতে পারে প্রথম প্রকৃত ইসলামপন্থী দেশ যা পারমাণবিক অস্ত্র পাবে। অন্যদিকে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও প্রায়শই ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের ডানপন্থী নেতাদের বর্ণবাদী ও ইসলামোফোবিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের মুসলিম নেতারা জানিয়েছেন, দেশটিতে চরম ডানপন্থী বক্তব্য বৃদ্ধি পাওয়া এবং অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে চরম ডানপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর চিরাচরিত মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।
সূত্র: The Guardian – Islam

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।