ইসলাম ডেস্ক: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ন
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে শিঙায় ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের ধ্বংস বা কেয়ামত সংঘটিত হবে। কেয়ামত কবে অনুষ্ঠিত হবে সেই সুনির্দিষ্ট জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কারও নেই। তবে উম্মতকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে বেশ কিছু লক্ষণের কথা উল্লেখ করে গেছেন। এসব আলামতকে সাধারণত বড় আলামত ও ছোট আলামত—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দাজ্জালের আগমন ও হযরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণের মতো ঘটনাগুলো বড় আলামতের অন্তর্ভুক্ত হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছোট আলামত ইতোমধ্যে দৃশ্যমান বলে আলোচনা করেছেন আলেম ও লেখক এহসান সিরাজ।
কেয়ামতের অন্যতম ছোট আলামত হলো একসময়ের দরিদ্র মেষপালকদের সুউচ্চ দালানকোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতা। সহিহ মুসলিমের ‘হাদিসে জিবরিল’-এ উল্লেখ রয়েছে, যখন ফেরেশতা জিবরিল (আ.) কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে জানতে চান, তখন মহানবী (সা.) বলেন, মানুষ দেখতে পাবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও অভাবগ্রস্ত মেষপালকেরা সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সমাজে আমানতদারিতা ও সততা হারিয়ে যাওয়া এবং অযোগ্য মানুষের হাতে ক্ষমতা বা দায়িত্ব হস্তান্তর হওয়াও কেয়ামতের বড় সংকেত। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এসেছে, এক বেদুইনের প্রশ্নের জবাবে মহানবী (সা.) জানান, যখন আমানত নষ্ট করা হবে অর্থাৎ অযোগ্য ব্যক্তির ওপর কোনো কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করতে হবে।
তৃতীয়ত, ধর্মীয় জ্ঞান তুলে নেওয়া এবং অজ্ঞতার বিস্তার ঘটা কেয়ামতের আরেকটি লক্ষণ। বুখারি শরীফের হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের আগে ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে, অজ্ঞতা ও মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যভিচার প্রকাশ্য রূপ নেবে। জ্ঞান তুলে নেওয়ার অর্থ হলো সমাজ থেকে সত্যিকারের আলেমদের মৃত্যু ঘটা, যার ফলে মানুষ মূর্খদের নেতা বানিয়ে তাদের থেকে ভুল ব্যাখ্যা গ্রহণ করবে।
চতুর্থত, সময়ের দ্রুত বয়ে যাওয়া বা সময় থেকে বরকত উঠে যাওয়া। সুনানে তিরমিজির হাদিসে মহানবী (সা.) উল্লেখ করেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সময় এত দ্রুত বয়ে যাবে যে বছর হবে মাসের মতো, মাস হবে সপ্তাহের মতো, সপ্তাহ হবে দিনের মতো, এবং দিন ঘণ্টার মতো হয়ে যাবে।
পঞ্চমত, মানবজীবনের চরম অবমূল্যায়ন ও অহেতুক হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়া। সহিহ মুসলিমের হাদিসে নবীজি (সা.) সতর্ক করেছেন, এমন এক যুগ আসবে যখন হত্যাকারী জানবে না সে কেন হত্যা করছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না তাকে কী অপরাধে হত্যা করা হলো। লেখক উল্লেখ করেন, কেয়ামতের এসব আলামত দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের আমল পরিশুদ্ধ করাই ইসলামের মূল শিক্ষা।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।