স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনা ঘটছে—এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী সেহলী পারভীন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-২-এর একটি বিশেষ শিক্ষাঙ্গনে জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেহলী পারভীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের খবর নিয়মিতই সামনে আসছে। এসব ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী পরিবার নয়, সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “সমগ্র জাতি আজ এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে।”
মানবাধিকারকর্মী সেহলী পারভীন আরও বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র নির্ধারিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অনেক সংবাদকর্মী এখনো যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপনা ও মালিকপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি, হয়রানি বন্ধ এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
সেহলী পারভীন বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকেও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। এ সময় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।