— বিজ্ঞাপন —

সরাইলে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ ভুগান্তিতে একটি পরিবার

Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

সরাইল প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামে বাচ্চাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে মো. সাজন মিয়া বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের পাল্টা অভিযোগ এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ১০টায় দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা তাহের মিয়া (৬০) বাজারে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফারুক মিয়া (৫৫), নাছির মিয়া (৫৮), রকু মিয়া (৪৫), দিপু মিয়া (২৬), শান্ত (২২) ও লিমন মিয়াসহ কয়েকজন তাকে গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন।

এতে তাহের মিয়া গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় তার কাছে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

— বিজ্ঞাপন —

ভুক্তভোগীর ছেলে সাজন মিয়া বলেন, “বাচ্চাদের বিষয় নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটির জের ধরে আমার বাবা ও চাচাতো ভাইযের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এমনকি আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং যে কোনো সময় প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়নি। পরে প্রতিপক্ষ তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে একটি অকাল গর্ভপাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে বলে দাবি করেন তিনি। ভুক্ত ভোগীরা বলেন,স্বাভাবিক ভাবে হওয়া অকাল গর্ভপাতকে পুজি করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে আমাদের করা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে গর্ভপাত হয়েছে, যা একেবারেই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক সালিশকারক জানান, শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে এক পক্ষ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সালিশে অংশ নেয়নি। পরে গর্ভপাতের ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, “ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠছে।তবে রুকু মিয়ার তিন স্ত্রীর মধ্যে এক স্ত্রীর গর্ভপাতকে পুজি করে সে সাজন মিয়ার পরিবারকে ফাঁশানোর জন্য নাটক সাজানো হয়েছে।  প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বের হওয়া উচিত।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রকু মিয়ার স্ত্রী আরিফাকে গত ৫ জুন সরাইল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ডা. সৈয়দা ইয়াসমিন পলির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শারীরিক জটিলতা ও পানিশূন্যতার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রুকু মিয়া’র স্ত্রী আরিফা বলেন, তারা লাথি মেরে আমার গর্ভের ৪মাসের বাচ্চার গর্ভপাত ঘটিয়েছে। আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি অনুযায়ী তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗