
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অর্ধশত বছর পার করলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের একটি অংশের স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে সাত থেকে আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রধান শিক্ষকসহ অধিকাংশই নারী। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও জবাবদিহিতার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বাড়ি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনায় স্থানীয় প্রভাবের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্ব, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন বলেও দাবি তাদের। বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি, প্রশ্ন করাতে তিনি রেগে যান।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এক যুগ, এমনকি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকার ফলে শিক্ষকরা বিদ্যালয়টিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে সরকারি চাকরিতে বদলির বিধান ও তার প্রয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিমালা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোহাম্মদ মামুন বলেন সূর্যকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের বিষয়ে অবগত নয়, বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখবো। তবে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ কেউ দেয়নি।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষিকা খোশনেহার লাকির স্বামী মো. আবুল ফাত্তাহ মাসুককে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, একই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর স্বামীকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের কোনো আশঙ্কা রয়েছে কি না। বিষয়টি স্বচ্ছভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমিটি গঠনের সময় প্রধান শিক্ষকের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন কি না, ক্লাস কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণ কেমন এসব বিষয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে।কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করা হোক। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক বদলি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি সুন্দর, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব।
