বাড়িটা আজ ক্লান্ত, তাকেও দাফন করতে হবে: আসিফ আকবর
দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর আবারও আলোচনায়। তবে এবার নতুন কোনো গান বা সংগীত আয়োজন নয়, বরং শৈশব-কৈশোরের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে থাকা পৈতৃক বাড়ি ‘আকবর ভিলা’কে ঘিরে আবেগঘন এক ফেসবুক পোস্টে মন ছুঁয়েছেন ভক্তদের।
বুধবার (৩ জুন) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক বাড়ির কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম আর ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকা বাড়িটির ইতিহাস।
পোস্টে আসিফ জানান, ১৯৬০ সালে বাবা-মায়ের বিয়ের পরপরই তাঁর দাদা মরহুম আবদুল হামিদের উদ্যোগে কুমিল্লায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তাঁর বাবা ছিলেন একজন নীতিবান আইনজীবী, যিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে মানবিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
শিল্পী লিখেছেন, “আমাদের সাত ভাইবোনকে শিক্ষিত করতে গিয়ে আব্বাকে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আম্মাও সীমিত সামর্থ্যের সংসারে ধৈর্য, ত্যাগ আর দূরদর্শিতার মাধ্যমে পরিবারকে আগলে রেখেছেন। তাদের সেই স্বপ্ন, শ্রম আর ভালোবাসার ফলই ছিল ‘আকবর ভিলা’।”
শুধু একটি বাড়ি নয়, ‘আকবর ভিলা’ যেন একটি পরিবারের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। এই বাড়িতেই বড় হয়েছেন আসিফ ও তাঁর ভাইবোনেরা, এখানেই হয়েছে পরিবারের সদস্যদের বিয়ে, এমনকি বাবা-মায়ের শেষ বিদায়ও হয়েছে এই প্রাঙ্গন থেকেই।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লেখেন, “এই বিল্ডিংয়েই জমা আছে আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের আরব্য রজনীর গল্প। পাঁচ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা, হাসি-কান্না আর সংগ্রামের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আকবর ভিলা।”
তবে আবেগঘন এই পোস্টের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশ ছিল বাড়িটি ভেঙে ফেলার ইঙ্গিত। আসিফ লিখেছেন, “৬৬ বছর বয়সী এ বাসাটা আজ ক্লান্ত। তাকেও দাফন করতে হবে। বুকভরা শূন্যতা নিয়ে পাঁচ প্রজন্মের ইতিহাসকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে, জায়গা করে দিতে হবে নতুন স্থাপনাকে।”
পোস্টটি প্রকাশের পর ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগের সঞ্চার হয়। অনেকেই মন্তব্যে বাড়িটি সংরক্ষণের অনুরোধ জানান। তবে শিল্পী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবতার কথা ভেবেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
একটি বাড়ি ভেঙে যাবে, কিন্তু তার দেয়ালে জমে থাকা স্মৃতি, ভালোবাসা আর ইতিহাস কি কখনো মুছে যায়? ‘আকবর ভিলা’কে ঘিরে আসিফ আকবরের আবেগঘন এই স্মৃতিচারণ যেন সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
