সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের আংশিক এলাকার মানুষের দীর্ঘশ্বাস কি আর কখনো থামবে?
রাজনীতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম চিত্র যেন ভিন্ন কথা বলছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, দলীয় কোন্দল, প্রতিহিংসা ও নেতৃত্বের টানাপোড়েনে বারবার পিছিয়ে পড়ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ।
সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগরের আংশিক এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। প্রত্যাশা ছিল—রাস্তা হবে, সেতু হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রত্যাশার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।
প্রশ্ন উঠছে—একটি এলাকার জনগণ কেন রাজনৈতিক বিরোধের খেসারত দেবে?
নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থাকবে, মতের পার্থক্য থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যদি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন, সরকারি বরাদ্দ ও জনস্বার্থের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর জনগণ কোনো দলের বলির পাঁঠা নয়। তারা করদাতা, ভোটার এবং রাষ্ট্রের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাদের উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়—এটি তাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার।
আজ সময় এসেছে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশ্ন করার—কেন এই এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বারবার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কাছে আটকে যাবে? কেন জনগণের ভোটের মূল্য নির্বাচনের পর এতটাই কমে যাবে?
রাজনীতিবিদদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা চান নিরাপদ সড়ক, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি সত্যিই জনগণের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আর কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলির পাঁঠা হতে চায় না সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের মানুষ।
তাদের একটাই দাবি—
রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, উন্নয়ন হোক সবার জন্য; আর জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা হোক বাস্তব উন্নয়নের মাধ্যমে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।